টোকেনের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষায় অর্থ আদায়!

77

ঝিনাইদহ অফিস:
টোকেন স্লিপিরে মাধ্যমে ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসায় মৌখিক পরীক্ষায় অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। কামিল ১ম ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে জনপ্রতি ৪ শ টাকা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গতকাল সোমবার সকাল থেকে কামিল ১ম ও ২য় বর্ষের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শুরু থেকেই মাদ্রাসার একটি কক্ষে অফিসের কর্মচারী জাফর ও শিক্ষক মোমিন প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ শ টাকা নিয়ে টোকেন দিচ্ছেন। যা পরীক্ষার গেটে থাকা নিরাপত্তা প্রহরীতে দেখিয়ে ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে। টাকা না দিলে তাঁদের টোকেন দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী তাঁর সাদা টোকেন দেখিয়ে বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে ২ শ টাকা নিয়ে এসেছিলাম পরীক্ষা দিতে। এখানে এসে শুনছি পরীক্ষা দিতে হলে ৪ শ টাকা দিতে হবে। আমি টাকা দিইনি বলে আমার সাদা টোকেন দেওয়া হয়েছে।’ ২য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪ শ টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা নেওয়ার ব্যাপারে আমরা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, এটা নাস্তা খরচ নেওয়া হচ্ছে।’ আরেক ছাত্র অভিযোগ করেন, ‘কামিল ১ম ও ২য় বর্ষে শিক্ষার্থী রয়েছে ২২৩ জন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নাস্তা বাবদ ৪ শ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাহলে প্রায় ৯০ হাজার টাকা নাস্তা বাবদ আমাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে।’ সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে টাকা ও পরীক্ষা নেওয়া বন্ধ করে দেন শিক্ষকেরা। পরীক্ষা কক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ করলেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দস। তিনি বলেন, ‘আমি জাফর ও মোমিনকে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা কোনো টাকা গ্রহণ করেনি।’ তিনি বলেন, কেউ মিথ্যা অভিযোগ সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের ভিডিও ক্যামেরার সামনে শিক্ষার্থীরা টাকা গ্রহণের অভিযোগ করেন। তাঁরা এ সময় টাকা নেওয়ার টোকেনও প্রদর্শন করেন। মাওলানা হাকিমপুরি নামে একজন ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন জনপ্রতি ৪ শ নিচ্ছে যার ভুক্তভোগী আমিও একজন। ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভাইভা দিচ্ছেন। এতে আনুমানিক টাকার অংক হবে ৮০ হাজার টাকা। টাকা নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করেছি। তারা বল্লেন নাস্তা করাবে। স্থানীয় ৪ জনসহ ঝালকাঠির একজন মেহমানকে নাস্তা করাতে কি ৮০ হাজার টাকা লাগে? তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমাদের কাছ থেকে এক টাকাও কম নেওয়া হয়নি।’