টুপি দেখে খুনি গ্রেপ্তার!

37

ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দখলপুর গ্রামের বেলেমাঠে কৃষক নুর ইসলাম ওরফে বুড়োকে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা হত্যাকারীদের একজনের ব্যবহার করা মাথার টুপির (ক্যাপ) সূত্র ধর ক্লুলেস এ হত্যার মূল কারণ ও ঘটনা উদ্ঘাটন করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। যার মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বরিশখালী গ্রামের মৃত মুছা মোল্লা ছেলে মতিচুর রহমান, একই গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে জিনারুল ইসলাম ও সাবার মোল্লার ছেলে শামীম হোসেন। এদের মধ্যে মতিচুর জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক রয়েছেন। জিনারুল ও শামীম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, গত বছরের ৫ মে বিকেলে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দখলপুর গ্রামের বেলেমাঠ থেকে কৃষক নুর ইসলাম ওরফে বুড়োর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই দিন নিহতের ভাই আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে হরিণাকুণ্ডু থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও মূল ঘটনা জানতে তদন্তে নামে হরিণাকুণ্ডু থানার পুলিশ। একজনকে গেপ্তার করা হলেও মূল ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আদালত মামলা ডিবিতে হস্তান্তর করে। ঝিনাইদহ ডিবি পুলিশের ওসি আনোয়ার হোসেনর নেতৃত্বে মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ পরিদর্শক নজরুল ইসলাম।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা নিয়ে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, হত্যার ২-৩ দিন আগে কৃষক নুর ইসলাম ওরফে বুড়ো তাঁর পানবরজের জমির আইল কাটছিল। পাশের জমির মালিক একই গ্রামের মতিচুর রহমান জমির আইল কাটতে বাধা দেয়। এ নিয়ে বুড়ো ও মতিচুরের বাগবিতণ্ডা হয়। হত্যার দুই দিন আগে সন্ধ্যায় মতিচুর বরিশখালী বাজারের একটি চায়ের দোকানে আসামিদের নিয়ে বুড়োকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার দিন ৫ মে বুড়ো নিজ পানবরজে কাজ করার সময় হত্যাকারীরা ঘটনাস্থলে যান। কিলিং মিশনে অংশ নেন ৬ জন। প্রথমে বুড়োকে চড়-থাপ্পড় মারলে তিনি পড়ে যান। সেখান থেকে দৌঁড়ে পাশের পানবরজে গেলে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন তাঁরা। এরপর আসামিরা যার যার মতো চলে যান। হত্যাকারীদের একজন জিনারুল ইসলাম পাশের জমির তাঁর নিজের পানবরজে যান। সেখানে তাঁর মাথায় থাকা রক্তমাখা ক্যাপ (টুপি) ভুল করে ফেলে রেখে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে ক্যাপটি উদ্ধার করে। মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর ডিবি পুলিশের ওসি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক নজরুল ইসলাম ক্যাপের মূল মালিক খোঁজা শুরু করেন। স্থানীয় ও গ্রামবাসী ক্যাপটি জিনারুলের বলে শনাক্ত করলে জিনারুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
এদিকে হত্যার পর থেকে জিনারুল ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া এলাকা আত্মগোপনে থাকে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ঢাকা ও তার আশপাশে ডিবি পুলিশ কখনো নির্মাণ শ্রমিক, কখন হকার সেজে সেখানে অভিযান শুরু করে ডিবি। ঢাকা থেকে জিনারুলকে গত ৩০ মে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি। ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জিনারুল হত্যার কথা স্বীকার করে ৩১ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ৩১ মে শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শামীমও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।