টিউবওয়েলে বোতল-কলস হাতে মানুষের ভিড়!

122

প্রতিবেদক, তিতুদহ:
কয়েক দিন যাবৎ ঝিনাইদহের মধুহাটিতে টিউবওয়েলের পানি খেলে সব রোগ ভাল হচ্ছে, এমন গুজবে পানি নিতে ভিড় জমাচ্ছিলেন এলাকার হাজার হাজার মানুষ। তবে এ গুজব থেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের সব বিভাগের কর্মকর্তারা টিউবওয়েলটি অপসরণ করেন। তারপর থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করে। এ দিকে গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন করে আবার একই গুজবের দৃশ্য দেখা গেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের গোলাপনগর উত্তরপাড়ার কবরস্থান-সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানের টিউবওয়েলটি ঘিরে।
সরেজমিনের দেখা গেছে, মাঠের মধ্যে ঈদগাহ ময়দানের টিউবওয়েলটি ঘিরে অসংখ্য নারী ও শিশু সারি বেঁধে বোতল, হাঁড়ি, ড্রাম, কলসসহ বিভিন্ন ধরনের পানি নিয়ে যাওয়ার পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দর্শনা থেকে পানি নিতে আসা বিউটি বেগমের কাছে এ লাইনে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলাকার কেউ একজন স্বপ্নে দেখেছেন, এ টিউবওয়েলের পানি মহাওষুধ। যা পান করলে সব রোগ সেরে যাবে। তাই আমরা বিশ^াস করে আলমসাধুযোগে এ স্বপ্নে দেখা পানি নিতে এসেছি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে গ্রামবাসীর অর্থায়নে এ টিউবওয়েলটি স্থাপন করা হয়। তবে টিউবওয়েলটি নিয়ে এমন কথা এর আগে কখনো শোনেননি এলাকার লোকজন। হঠাৎ করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ৮-১০টি আলমসাধু দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কাছে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পানি নিতে এসেছে।
এ বিষয়ে তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি, তবে এ পানি পান করে রোগ নিরাময়ের কথাটি অবশ্যই বানোয়াট।’
এর আগে মধুহাটি ইউনিয়ন থেকে পানি পান করা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, ‘আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি, অযথায় টিউবওয়েলটি সরিয়ে নিয়েছে।’
তিতুদহের একটি চায়ের দোকানের সূত্রে জানা গেছে, গত দুই-তিন দিন পূর্বে গোলাপনগর পাড়ার কেউ একজন তাঁর ফেসবুক আইডিতে সব রোগ নিরাময়ের মহাওষুধ বলে টিউবওয়েলটিকে আখ্যায়িত করে একটি পোস্ট দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মানুষের ভিড় লাগে বলেও জানান অনেকে।
এলাকার সুধীজনেরা জানান, এ টিউবওয়েলটি কে স্বপ্নে দেখেছেন, তাঁর কোনো প্রমাণ নেই, তাঁকে কেউ দেখেওনি, অযথায় গুজবে সবাই এ পানি নিতে আসছেন। তবে যাঁরা এসব গুজব এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁদের চিহ্নিত করে অবশ্যই দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিৎ।