ঝুকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক পিলারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা!

17

জীবননগরে ড্রেন নির্মাণ কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ঢেলেমিতে জনদুর্ভোগ
জীবননগর অফিস:
জীবননগর পৌর এলাকায় ড্রেনের কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী। জানা গেছে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে জীবননগর পৌর শহরের লাভলীপাড়া থেকে ডা. দোস্ত মোহাম্মদের বাড়ি পর্যন্ত ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুপা কনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ড্রেনের কাজ চলাকালীন সময়ে থানা মোড়ে মেইন রাস্তা খুড়ে ড্রেন নির্মাণকাজ চললেও এখনও পর্যন্ত ড্রেনটি সম্পন্ন হয়নি। ঠিকারদার প্রতিষ্ঠানের ঢেলেমিতে মেইন রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনের একটি অংশে বৈদ্যুতিক পিলার ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় বেঁকে থাকায় স্থানীয় জনগণসহ ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছে। যখন-তখন বৈদ্যুতিক পিলারটি পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয় ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন, মেইন রাস্তা খুড়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু যেখানে ড্রেনের কাজ করা হচ্ছে, সেখানে একটি বৈদ্যুতিক পিলার আছে। মাটি খোড়ার ফলে পিলারটি হেলে গেছে। স্থানীয়রা পিলারটি বাঁশ দিয়ে আটকিয়ে রেখেছে। তা ছাড়া লাভলীপাড়াবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে যে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, তা কোনো উপকারে আসছে না। পানি নিষ্কাশনের পরিবর্তে ড্রেনের মধ্যে পানি জমে থাকছে। এক দিকে উঁচু আর এক দিকে নিচু হওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। এতে করে ড্রেনের মধ্যে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশার প্রার্দুভাব বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তা ছাড়া ড্রেনের কাজ প্রায় শেষের দিকে হলেও শুধুমাত্র মেইন রাস্তার কাজ বন্ধ করে রেখেছে। যদি এই ড্রেনের কাজ দ্রুত শেষ না করা হয়, তাহলে যেকোনো সময় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
একই অভিযোগ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, ড্রেন নির্মাণের সময় ওই ড্রেনের ভেতরে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় একটি বৈদ্যুতিক পিলার রয়েছে। পিলারটি ঝুঁকে পড়ে আছে। যেকোনো সময় পিলারটি ভেঙে পড়তে পারে। এ বিষয়টি যদি কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে না দেখে, তা হলে চরম দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির আওতাধীন জীবননগর সাব জোনালের এজিএম মইনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, থানা মোড়ে ড্রেনের মধ্যে যে পিলারটা আছে, এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। পিলারটার চারদিকে বাঁধা আছে।
কাজের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম টগরের জানান, থানা মোড়ের ড্রেনের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। বৃষ্টির কারণে কাজটি থেমে আছে। এর আগে বেশ কয়েকবার ড্রেন থেকে মেশিন দিয়ে পানি তোলা হয়েছে। আবার বৃষ্টিতে ভরে গেছে। তবে বৃষ্টি থামলেই ড্রেনের কাজ শেষ করা হবে।
এ ব্যাপারে জীবননগর পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘থানা মোড়ে ড্রেনের কাজ যাতে দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে আমি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলব। আশা করি খুব শিগগিরই এর সমাধান হয়ে যাবে।’