ঝুঁকির মুখে জাতীয় নিরাপত্তা

17

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কঠোর হোন
কক্সবাজার অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতি, তাদের ফিরে না যাওয়ার মনোভাব, আন্তর্জাতিক কিছু এনজিও বা সাহায্য সংস্থার ভূমিকা এবং পরাশক্তিগুলোর স্বার্থ চরিতার্থ করার খেলা কোনোটাকেই সহজভাবে নেওয়ার বা দেখার উপায় নেই। অনেকেরই ধারণা, রোহিঙ্গাদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের যে খেলা চলছে, তা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তাকেও বিঘ্নিত করতে পারে। বাংলাদেশের সরকার বা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিতরা কি বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট সচেতন? কক্সবাজার ছিল প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এখানে ইন্দো-মালয় শ্রেণিভুক্ত এমন কিছু ফ্লোরা ও ফানা রয়েছে, যা দেশের আর কোথাও নেই। সেসবই আজ ধ্বংস হয়ে গেছে। কক্সবাজারের আইন-শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে স্থানীয় অধিবাসীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে চলে এসেছে। ইয়াবা, অস্ত্রসহ চোরাচালান ব্যাপক হারে বেড়েছে। আর এসব ক্ষতি ছাপিয়ে এখন জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে ভাসানচরে উন্নত মানের ঘরদোর ও সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হলেও কোনো রোহিঙ্গাকে সেখানে নেওয়া যাচ্ছে না। কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা এর বিরোধিতা করছে। দুবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগও ব্যর্থ হয়েছে। এখানেও কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও রোহিঙ্গাদের ফিরে না যাওয়ার জন্য উসকানি দিচ্ছে। সেখানে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করার মতো কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। জাতিসংঘের তদন্তদল মিয়ানমারে গণহত্যা বা জেনোসাইডের আলামত পেলেও যুক্তরাষ্ট্র তাকে জেনোসাইড বলছে না। অবরোধ আরোপ তো দূরের কথা, পাশ্চাত্য মিয়ানমারের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরিতেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। আর তাতে চাপ সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট। রানা প্লাজা ধসের কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি কেড়ে নিলেও মিয়ানমারকে এখনো জিএসপি দিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিয়ানমারকে নানাভাবে বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। চীন, রাশিয়া ও ভারতের নানামুখী ঘনিষ্ঠতা আগে থেকেই রয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তারা সেই সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না। তাহলে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার বাধ্য হওয়া তো দূরের কথা, আগ্রহীই বা হবে কেন? নাগরিকত্বসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নেবে কেন? পরিবেশ না হলে কিংবা দাবি পূরণ না হলে রোহিঙ্গারা কি স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে থেকে যাবে? ভূ-রাজনৈতিক কারণে এই অঞ্চলে অনেকেই নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায়, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে আরো কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করতে পারে। সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে না হোক, অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে কক্সবাজারকে রক্ষা করতে হবে। এখানে কে কী বলল, তা বিবেচনায় নেওয়ার অবকাশ নেই।