ঝিনাইদহের বিষয়খালী বাজারে মেইন সড়কে দুটি চলন্ত ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষ চালক মেহেরপুরের মামুনের মৃত্যু : প্রাণে রক্ষা পেলো হেলপার

172

Accident Picture 1

ঘটনাস্থল থেকে ফিরে হামিদুল/বাবু: ঝিনাইদহের সদরের বিষয়খালী বাজারের মেইন সড়কে দুটি চলন্ত ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে এক চালক নিহত ও ২ হেলপার আহত হয়েছে। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে এই মর্মান্তিক সড়ক র্দূঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই খুলনাগামী ট্রাকের চালক মামুন নিহত যায়। হেলপার শুসম অল্পের জন্য প্রানে রক্ষা পেলেও আহত হন। জানা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার হাসানাবাদ গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছোট ছেলে মামুন (২৬) ড্রাইভার নিলয় বাণিজ্যালয় থেকে একটি কাঁচামাল ভর্তি ট্রাক নিয়ে দুপুর পৌনে ২টার দিকে বারাদী বাজার থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ঝিনাইদহ শহরের অদূরে বিষয়খালী বাজারে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটানাস্থলেই নিহত হয় নিলয় এন্টার প্রাইজের চুয়াডাঙ্গা-ড-১১-০০৫৫ নং গাড়ীর ড্রাইভার মামুনের মৃত্যু হয়। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায় গাড়ীর হেলপার শুসম। এদিকে দূর্ঘটনা খবর পেয়ে ট্রাকের মালিক মেহেরপুর সদর উপজেলার গহরপুর গ্রামের চঞ্চল ও মেহেরপুর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের বারাদী শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আযম দ্রুত ঝিনাইদহের সদরের বিষয়খালী বাজারের ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং নিহত ট্রাক চালক মামুনের লাশ উদ্ধার করে রাত পৌনে ১০টার দিকে তার গ্রামের বাড়ী হাসনাবাদে পৌঁছায়। লাশ গ্রামে আসার খবরে এলাকার মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা ও উৎসুক জনতা লাশ এক পলক দেখার জন্য নিহত মামুনের হাসনাবাদ গ্রামের বাড়ীতে ভীড় জমায়। এদিকে লাশ গ্রামে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারীতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতেই গ্রাম্য কবরস্থানে তার দাফনকার্য সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত ট্রাক চালক মামুনের পরিচয়: মেহেরপুর সদর উপজেলার হালনাবাদ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মৃত শামসুল হকের ৪ সন্তানের মধ্যে মামুন সবার ছোট। সংসার জীবনে মামুনের ২টি ফুটফুটে কন্যা সন্তান আছে। বড় মেয়ে মায়িশার বয়স ৬ আর ছোট মেয়ে মাফিয়ার বয়স ২ বছর। বছর আটেক আগে পরিবারের অমতে বিয়ে করে নিহত ট্রাক ড্রাইভার মামুন। বিয়ের পরথেকে সে মেহেরপুর সদর উপজেলার পাটকেলপোতা গ্রামে বসবাস করতো। দীর্ঘ ৮বছর হেলপারি জীবন শেষ করে মাস দুয়েক আগে মেহেরপুর বারাদী বাজারের নিলয় এন্টার প্রাইজের একটি ট্রাকে চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন নিহত মামুন। শেষ যখন বাড়ী থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে কাঁচামাল ভর্তি বের হন। বাড়ী থেকে বের হওয়ার আগে ২মেয়েকে আদর করে বলেছিলো মা তোমরা থাকো আসি খুব তাড়াতাড়ি তোমাদের ঈদের নতুন পোষাক নিয়ে ফিরে আসবো।