জয়া আত্মহত্যা করেনি, হত্যার শিকার!

79

চুয়াডাঙ্গার হাসনহাটিতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় জয়া রানি (২০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে। গত মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাসনহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জয়া রানিকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতলে নেয়। এ সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতের লাশ হাসপাতালের লাশঘরে রাখে।
জানা যায়, দুই বছর পূর্বে রাজবাড়ী সদর উপজেলার লক্ষীকূল হরিসভা এলাকার দুলাল সরকারের মেয়ে জয়া রানির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাসনহাটি গ্রামের মৃত আনন্দ বিশ্বাসের ছেলে বাসু দেবের বিবাহ হয়। চার মাস পূর্বে তাঁদের একটি কন্যা সন্তান হয়। সাংসারিক জীবনে তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন সময় ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার দুপুরে জয়া রানি আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারণা করছে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ গত মঙ্গলবার দুপুরেই হাসপাতালের লাশঘর থেকে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে। গতকাল দুপুরে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
নিহত জয়া রানির কাকা গোউর চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মেয়ে জয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকদিন যাবত কোনো যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। পরে মঙ্গলবার দুপুরে জয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা চুয়াডাঙ্গায় আসি। বিয়ের পর থেকে জয়ার শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা তাঁর ওপর নির্যাতন করত। জয়া আত্মহত্যা করেনি। তাঁকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।’
গতকাল দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুস সাকিবকে প্রধান করে সার্জারি কনসালট্যান্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামীম কবিরসহ তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির বলেন, মেডিকেল বোর্ড গঠন করে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, জয়া রানি নিহতের ঘটনায় সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। নিহতের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।