জীবননগর ভৈরব নদীর উপর নির্মিত ব্রিজে ফাটল

220

ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন!
জীবননগর অফিস: জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে লক্ষীপুর মসজিদের কাছে ভৈরব নদীর উপর নির্মিত ব্রিজটিতে ফাটল ধরেছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও এলাকাবাসী। ব্রিজটি দ্রুত মেরামতের দাবি স্থানীয়দের।
জানা গেছে, জীবননগর মহাসড়কের লক্ষীপুর ভৈরব নদীর উপর বৃটিশ আমলের নির্মিত লোহার ব্রিজটি ২০০৩ সালে অপসারণ করে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটির নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ছিলেন ইউন কনষ্ট্রাকশন (প্রা) লিঃ। ব্রিজটির নির্মাণের মেয়াদকাল দীর্ঘদিন হওয়ায় পরবর্তীতে কোন সংস্কারের ব্যবস্থা না করায় বর্তমানে ব্রিজের বিভিন্ন অংশে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বেও বিভিন্নস্থানে ফাটল ও কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছিলো। সে সময় কর্তৃপক্ষ ফাঁটলস্থানে পুটিং করে চলাচলের উপযোগী করে। কিন্তু বর্তমানে আবারও একই অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ সড়কটি ব্যস্ততম সড়ক হওয়ায় ব্রিজের উপর সবসময় যানবাহনের চাপ থাকে। সড়কটি দিয়ে সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী যানবাহন চলাচল করে থাকে ।
এবিষয়ে জীবননগর পৌরসভার প্যানেল মেয়র সোয়েব আহম্মেদ অঞ্জন বলেন, ব্রিজের যেসব অংশে ছোট ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে তা নিয়ে আমরা শঙ্কার মধ্যে আছি। এই ব্রিজের উপর দিয়ে পার্শ্ববতী ইউনিয়ন আন্দুলবাড়িয়া অবস্থিত কন্টেক মিলের ১২ চাকার ট্রাকের মাধ্যমে প্রত্যেকদিন অহরহ বৈদ্যুতিক পোল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। আমার জানা মতে যা এই রোডের জন্য উপযোগী নয়। অন্যদিকে ব্যস্ততম এই সড়কে ২৪ ঘন্টাই ভারী যানবাহনের চলাচল রয়েছে।
জীবননগর মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহের মোল্লা বলেন, ব্রিজটির যে অবস্থা যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙ্গে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া এই ব্রিজটির একটু দূরেই অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও স্কুল কলেজ। প্রতিনিয়িত ব্রিজটি দিয়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকে। তাই প্রাণহানির আগেই ব্যস্ততম সড়কের এই ব্রিজটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা উচিৎ।
জীবননগর ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র অনিক রহমান রনি জানান, প্রতিদিন কলেজসহ প্রাইভেট পড়ার জন্য দিনে ৩ থেকে ৪বার এই ব্রিজটি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ব্রীজটির মাঝে ফাটল ধরায় আমরা প্রতিনিয়িত আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করে থাকি।
জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল বলেন, আমি ব্রিজটি দেখেছি ব্রিজের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট ফাটল ও কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্রিজটি দিনে দিনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। খুব দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না আপনার মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারলাম। তবে ব্রীজটি সংস্কারের জন্য খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয় জনগণসহ সুধী মহল মহাসড়কের উপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ন ব্রিজটি দ্রুত সংস্কারের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছেন।