জীবননগরে ৭১ সালের দুটি তাজা মর্টারসেল ধ্বংস

81

সমীকরণ প্রতিবেদন:
১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাকালীন পাকিস্তানী বাহিনীর ছোঁড়া দুটি মর্টারসেল জীববনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী ধোপাখালী গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সেল দুটি দীর্ঘ বছর ধরে মাটির নিচে থাকলেও তা সক্রিয় ছিল। যশোর সেনানিবাসের বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম গত শনিবার বিকেলে মর্টারসেল দুটি ধ্বংস করে। এ সময় বিকট শব্দে এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ও ঘটনাস্থলে পাঁচ ফুট ব্যাসার্ধের বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জীবননগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মনোহরপুরে ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধোপাখালী গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে নূরুদ্দিন (৫৫) তার বসতভিটার সামনের পরিত্যক্ত জমিতে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের জন্য শুক্রবার ভিতের মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করেন। বিকেলে দিন মজুরেরা মাটির ভেতর হতে একটি অবিস্ফোরিত মর্টার সেল বের করে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জীবননগর থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং সেখানে পাহারা বসায়। অবিস্ফোরিত সেলটি কী অবস্থায় রয়েছে তা পরীক্ষা করার জন্য যশোর সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক দলকে খবর দেয়া হয়। এসময় অপর একটি সেলেরও সন্ধান পায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ ধোপাখালী ব্যাপারীপাড়ার নূর আলম দফাদারের ছেলে আরিফের বাড়ি থেকে রঙ করা ওই মর্টার সেলটি উদ্ধার করে। আরিফ জানান, পুকুর খনন কাজ করাকালে গত বছর এটি পাওয়া যায়। পরে তিনি এটি বাড়িতে নিয়ে রং করে রেখে দিয়েছিলেন। যশোর সেনানিবাসের বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান রায়হানের নেতৃত্বে একদল সদস্য ঘটনাস্থলে আসেন এবং মর্টার সেল দুটি মাঠের মধ্যে নিয়ে ধ্বংস করেন। ধ্বংসের স্থলে বিশাল গর্তের সৃষ্টিসহ বিকট শব্দে মর্টারসেল দুটি বিস্ফোরিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেল) আবু রাসেল, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গণি মিয়া ও ওসি (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আহসান হাবিব টিপু জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সীমান্তবর্তী ধোপাখালী গ্রামটি মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে ১৯৭১ সালে নিরীহ বাঙালী ও মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে পাকিস্তানী হাসাদার বাহিনী এ মর্টার সেল ছোঁড়ে; কিন্তু সলেগুলো বিস্ফোরিত না হয়ে মাটির নিচে চলে যায়। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া সাংবাদিকদের জানান, খবর পেয়ে মর্টারসেলটির পাহারায় পুলিশ নিযুক্ত করা হয় এবং অপরটি উদ্ধার করা হয়।