জীবননগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ!

869

জীবননগর অফিস:
জীবননগরে স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাতে জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের মোক্তারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার জন্য ওই শিক্ষক বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাপ করছেন।
জানা গেছে, মোক্তারপুর গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মিন্টুর মেয়ে মিনাজপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী কুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোক্তারপুর গ্রামের মামুনের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। শিক্ষক মামুন ওই স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করে। এ সময় মেয়েটি তাঁর বাবার কাছে বিষয়টি বলে দেয়। এদিকে লম্পট ওই স্কুল শিক্ষক মামুন বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় কিছু ক্ষমতাশীন নেতাদের কাছে ধন্যা দিতে থাকে এবং ঘটনাটি যাতে থামা চাপা পড়ে যায়, সে জন্য মেয়ের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি-প্রদান করে। বিষয়টি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামের এক নেতার মাধ্যমে মীমাংসা করেছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।
স্কুলছাত্রীর বাবা মিন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে মামুনের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। ওই দিন কেউ পড়তে না যাওয়ায় সে আমার মেয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমার মেয়ে আমাকে ঘটনাটি বললে আমি বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মামুনের সাথে কথা বলি। সে বিষয়টি কাওকে কিছু না বলার জন্য বলে।’
অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক মামুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাকে সমাজে হেয়পতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। আমি ওই স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানি করি নাই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ঘটনা।’
বাঁকা ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গত সোমবারে শুনেছি দুই পক্ষের কেউ আমাকে জানায়নি। গ্রামের সাধারণ মানুষের মুখে শুনেছি। তবে বিষয়টি দুই পরিবারের সকলে বসে মিমাংশা করেছে।’
জীবননগর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল ছাত্রীর শ্লীতাহানির যে অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।