জীবননগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘর্ষ : কাউন্সিলরসহ আহত-৬

134

জীবননগর অফিস: জীবননগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ একই পরিবারের ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খন্দকার আলী আজম গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের লক্ষীপুর মিলপাড়ায় বিচার মজলিশে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন লক্ষীপুর মিলপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খন্দকার আলী আজম (৪৫), জব্বার হালদারের ছেলে আলমগীর (৩৫), একই পরিবারের মৃত কালাইকান্ত ব্যাপারীর ছেলে আনসার আলী (৬০), আনসার আলীর ছেলে জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সদস্য রমজান আলী (৩০), আনসার আলীর ছেলে রিয়াজুল ইসলাম (২৫) এবং আনসার আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৮)।
আহত রমজান আলী বলেন, গত কয়েকদিন আগে কাউন্সিলর আলী আজম গ্রুপের শিশিরসহ বেশ কিছু ছেলে মিলে লক্ষীপুর মিলপাড়ায় আমাদের ভুট্রার জমিতে ছবি উঠতে যেয়ে বেশ কিছু ভুট্রাগাছ ভেঙ্গে ফেলে। আমার বাবা তাদের জমি থেকে যেতে বললে তারা আমার বাবাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আমি আর আমার ভাই তাদের বিষয়টি বললে তারা আমাদের উপর চড়াও হয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের নিষেধ করলে তারা আমাদের মারতে আসে। এ সময় দুইজনের মধ্যে একটি হাতাহাতি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আমি কাউন্সিলর আলী আজমকে বললে তিনি বিষয়টি নিয়ে গ্রামে বসার কথা বলে। আমরা তার দেয়া সময়ে গতকাল হাজির হলে সেখানে কাউন্সিলর তাদের পক্ষ নিয়ে আমাদের উল্টো দোষারফ করে। আমরা প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলরের পোষা লাঠিয়াল বাহিনী আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমিসহ আমার পরিবারের সকলকে তারা পিটিয়ে রক্তাত্ব জখম করে। এ সময় স্থানীয় জনগন আমাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে ঘটনাটি অন্যদিকে প্রভাবিত করার জন্য কাউন্সিলর আহত হওয়ার অভিনয় করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উন্নত চিকিৎসার নামে ভুয়া কাগজ করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। কাউন্সিলর খন্দকার আলী আজমের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হলে ফোনটি রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত কাউন্সিলরসহ ৬ জনকে দেখতে জীবননগর হাসপাতালে ছুটে যান পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র দুই গ্রুপের মধ্যে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এই ঘটনায় শরিফুল নামের একজনের অবস্থা একটু গুরুত্বর তাছাড়া সকলের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গনি মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, পৌরসভার লক্ষীপুর গ্রামে দুই গ্রুপের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পরিবেশ শান্ত তাছাড়া তেমন বড় ধরনের কোন সমস্যা হয়নি। তবে এ বিষয়ে যদি কোন মামলা হয় তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।