জীবননগরে গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামী আটক

36

জীবননগর অফিস:
জীবননগরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় গৃহবধূকে পাশবিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগে যৌতুকলোভী স্বামী মামুনকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে জীবননগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড রাজনগরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে জীবননগরের সীমান্ত ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের শিহাব হোসেনের মেয়ে স্বপ্না খাতুনের (১৯) সঙ্গে জীবননগর পৌর এলাকার রাজনগরপাড়ার জহুরুল ইসলামের ছেলে মামুনের (২৫) আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের পরিবারের থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা যৌতুক নেই মামুনের পরিবার। ৬ মাস খুব ভালোভাবে সংসার করলেও ৭ মাসের মাথায় সংসারে শুরু হয় অশান্তি। স্বামীর কথা মতো যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় গৃহবধূ স্বপ্নার ওপর প্রতিনিয়ত করা হত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে যায় গৃহবধূ স্বপ্না খাতুন। বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর স্বামী মানুন সেখানে গিয়েও তাকে মারধরে চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়ে যৌতুকলোভী স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়।
গতকাল মঙ্গলবার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিকড় সমাজকল্যাণ সংস্থার সদস্যদের কাছে গৃহবধূসহ তার পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা চেয়ে গৃহবধূ স্বপ্নার ওপর নির্যাতনের বিষয়টি বলে। পরে সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে সঠিক বিচারের জন্য জীবননগর থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
এসময় নির্যাতিতা গৃহবধূ স্বপ্না খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আামার স্বামী প্রতিদিন নেশা করে আমাকে মারধর করে এবং আমার বাবার থেকে টাকা আনতে বলে। আমার বাবা তাকে ১লক্ষ ১৫হাজার টাকা দিয়েছে। আমার বাবা গরীর মানুষ, বার বার টাকা কোথাই পাবে, এ কথা বলতেই আমার শ্বাশুড়ি আর আমার মামা শ্বশুর মুক্তার আমাকে বাজে ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। আমার বাবা টাকা দিতে পারবে না বলে মুখ বুজে আমি তাদের সব নির্যাতন সহ্য করেছি। গত সোমবার রাতে আমার স্বামী আমার গোপানাঙ্গে আঘাত করে এবং বিভিন্ন স্থানে কামড়িয়ে দেয়। আমি তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে যায়।
সীমান্ত ইউপি সদস্য ইমাদ উদ্দিন বলেন, স্বপ্না খুব দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার স্বামী তাকে যে ভাবে নির্যাতন করেছে এটা আসলেই একটা লজ্জাজনক ব্যাপার। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তার নির্যাতনের বিষয়টি আমাকে বললে আমি ঘটনা স্থানে ছুটে যায় এবং মেয়েটিকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, আমি মেয়েটির বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। এমন কি লজ্জা স্থানেও তাকে আঘাত করা হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে আসা করি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
এব্যাপারে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে, এমন একটি অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনার সাথে জড়িত মামুনকে পুলিশ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, আইন সবার জন্য সমান।