জলবায়ু ও মহামারি মোকাবিলা

17

কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ অব্যাহত রাখা জরুরি। এ ছাড়া করোনাকালের এই বর্তমান বিশ্ব কতটা বিপর্যস্ত সেটাও বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনাভাইরাস মহামারি থেকে উদ্ভূত সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তথ্য মতে, যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে একথা বলেন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি শেখ হাসিনা। নিবন্ধটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড-১৯ বর্তমানে বৈশ্বিক হুমকি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিবন্ধে, উভয় ঝুঁকি প্রশমনে আরও অনেক কিছু করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আর সেটা করতে হবে ঐক্যবদ্ধ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে আমরা বলতে চাই, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা আশঙ্কাজনক তা আমলে নিতে হবে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি ছাড়াও মনে রাখা দরকার, করোনার সংক্রমণে দিশাহারা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গত কারণেই প্রধামন্ত্রীর এ আহ্বান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সময়োপযোগী বলেই প্রতীয়মান হয়। তাই এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ব নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধ বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। কেননা এটা মনে রাখা দরকার, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে রোধ করার কোনো উপায় নেই, কিন্তু সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যদিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। আর এ জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি। দুর্যোগ কখনো এককভাবে আঘাত হানে না এমনটি উলেস্নখ করে প্রধানমন্ত্রীও তার নিবন্ধে বলেছেন, গত মে মাসে বন্যার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। আর করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে ইতিমধ্যে ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। কোভিড-১৯ এ মৃত্যু ও আক্রান্তের হার এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এটিও উঠে এসেছে। এ ছাড়া গত মাসে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি এতে বাস্তচ্যুত হয়। লাখ লাখ হেক্টর জমির ধান বন্যার পানিতে ভেসে যায়। ফলে লাখ লাখ মানুষের জন্য এ বছর খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন হবে এমন বিষয়ও তিনি তুলে ধরেছেন। আমরা বলতে চাই, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি কিংবা মহামারির মতো বিষয়কে মোকাবিলা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেকের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছাড়া বিশ্ব সাফল্যজনকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামাল দিতে পারবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি এখনো আমাদের জন্য সেরা সুযোগ। এ পর্যন্ত ১৮৯টি দেশ এই চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। এতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বন্ধে নিঃসরণ কমাতে সম্মিলিত পদক্ষেপের অঙ্গীকার রয়েছে। বলা দরকার, এর আগে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৭০ সাল নাগাদ বিশ্বের ৩০০ কোটি মানুষকে ‘প্রায় বসবাস-অযোগ্য’ চরম উষ্ণ তাপমাত্রার মধ্যে থাকতে হবে। এ ছাড়া যদি গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ উলেস্নখযোগ্য হারে কমানো না যায়, তাহলে পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষকে গড়ে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়েও বেশি তাপমাত্রায় বসবাস করতে হবে। এটাও বলার অপেক্ষা রাখে না, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির বিষয়গুলো অত্যন্ত উদ্বেগের। কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কাও আছে। এর পাশাপাশি আমলে নেওয়া দরকার, করোনা মহামারিতে ৩ কোটি ১৭ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৯ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে বিশ্বনেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্টদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনাভাইরাস মহামারি থেকে উদ্ভূত সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের যে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, ফলে এর গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশ্ব নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।