জবানের হেফাজত

35

ধর্ম প্রতিবেদন
জবানের হেফাজত করা তথা মিথ্যা ও অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের অপরিহার্য কর্তব্য। প্রতিদিন আমরা কত কথা বলি, কত মানুষের সঙ্গে লেনদেন করি তা হিসাব রাখা মুশকিল। কিন্তু কারও সঙ্গে চলনে-বলনে যদি কোনো মিথ্যা কথা বলে ফেলি তাহলে তা কেয়ামতের দিন আমার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াবে। আর যদি মিথ্যা পরিহার করে চলতে পারি, সত্যের ওপর অটল-অবিচল থাকতে পারি তবে মহাপুরস্কার আমার জন্য অপেক্ষা করছে। হজরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বর্জন করে তার জন্য বেহেশতের এক প্রান্তে (বিরাট) প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। আর যে ব্যক্তি হক ও ন্যায়ের ওপর অটল থেকে ঝগড়া-বিবাদ পরিত্যাগ করে তার জন্য বেহেশতের কেন্দ্রস্থলে প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে। আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে উত্তমরূপে গঠন করে নেয়, তার জন্য বেহেশতের সর্বোচ্চ স্থানে অট্টালিকা তৈরি করা হবে। (তিরমিযী)। অপর হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হোরায়রা (রা) বলেন, রসুুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা জান কি কোন বস্তু মানুষকে সর্বাপেক্ষা বেশি বেহেশতে প্রবেশ করাবে? তা হলো আল্লাহর ভয় এবং সচ্চরিত্র। তোমরা জান কি মানুষকে কোন বস্তু সর্বাপেক্ষা বেশি দোজখে প্রবেশ করাবে? তা হলো দুটি ছিদ্র পথ। একটি মুখ এবং অন্যটি লজ্জাস্থান। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)। ভালো কথা বললে কী লাভ ও খারাপ কথা বললে কী ক্ষতি এ বিষয়ে এসেছে- হজরত বেলাল ইবনে হারেস (রা) বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো লোক ভালো কথা বলে, কিন্তু সে তার মর্যাদা সম্পর্কে বেখবর। তার জন্য আল্লাহতায়ালা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভের দিন পর্যন্ত (অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত) নিজের সন্তুষ্টি লিখে রাখবেন। আবার কোনো লোক খারাপ কথা বলে, কিন্তু সে জানে না, তা তাকে কোথায় নিয়ে যাবে? তার জন্য আল্লাহতায়ালা তার সঙ্গে সাক্ষাতের দিন (অর্থাৎ মৃত্যু) পর্যন্ত নিজের অসন্তুষ্টি লিখে রাখবেন। (শরহে সুন্নাহ), মিথ্যা কথা কখনো হাসির ছলেও বলা যাবে না। কাউকে হাসানোর জন্যও বলা যাবে না। এ বিষয়ে এসেছে- রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, সে ব্যক্তির জন্য ধ্বংস, যে কথা বলে এবং মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা কথা বলে। তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ ও দারেমী)। আরও এসেছে, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তি এরূপ কথা বলে, যা শুধু মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যেই। এ কথার জন্য সে দোজখের মধ্যে এত বেশি দ‚রে নিক্ষিপ্ত হবে, যতটা দ‚রত্ব রয়েছে আসমান এবং জমিনের মধ্যে। আসলেই মানুষের পদস্খলন অপেক্ষা মুখের স্খলন অধিক মারাৎদক। (বায়হাকী)। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জবানের হেফাজত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।