জনসমাগমস্থলে মাতৃদুগ্ধ সেবা

20

হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিন
মাতৃদুগ্ধ শিশুর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ খাদ্য বা পানীয়। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ পান শিশুকে বিভিন্ন রোগবালাই থেকে সুরক্ষিত রাখে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, দুই বছর পর্যন্ত শুধু বুকের দুধই হবে শিশুর একমাত্র খাবার। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে একজন মা ঘর থেকে বাইরে বেরোলে শিশুকে বুকের দুধ পান করানো নিয়ে নানা ধরনের সমস্যায় পড়েন। অফিস-আদালত, বাস-লঞ্চ-রেলস্টেশন, হাসপাতাল, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সম্প্রতি কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এমনই বিড়ম্বনার শিকার হয় ৯ মাস বয়সী শিশু উমাইর বিন সাদী ও তার মা। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকা শিশুটি ক্ষুধায় কান্নাকাটি করতে থাকলে তার মা বুকের দুধ খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করেও শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে পারছিলেন না অসহায় মা। অবশেষে বিমানবন্দরে নারী যাত্রীদের চেকিংয়ে দায়িত্বরত কর্মীকে রাজি করিয়ে সেখানে দুধ খাওয়ানো হয় শিশুটিকে। দুধ খাওয়ার পর শিশুটির কান্না থামে। এ রকম বিড়ম্বনার শিকার শিশুটির মা দুধ খাওয়ানোর পরিবেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে আবেদনটি করা হয়। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনসমাগমস্থলে মাতৃদুগ্ধ সেবা ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই সব স্থানে ব্রেস্ট ফিডিং ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়। একটি শিশু তার মায়ের বুকের দুধ খাবে, এটি তার মৌলিক অধিকার। শুধু রিট আবেদনকারী তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, এমন নয়। দেশের লাখ লাখ শিশু এভাবে বঞ্চিত হচ্ছে মাতৃদুগ্ধ পান থেকে। জনসমাগমস্থলে ধূমপানের জন্য আলাদা কর্নার থাকলেও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য নিরাপদ পরিবেশ বা কর্নার সেভাবে নেই। আমরা মনে করি, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, শপিং মল এবং রেলওয়ে স্টেশনের মতো জনসমাগমস্থলে ব্রেস্ট ফিডিং ও বেবি কেয়ার কর্নার সর্বত্র থাকা প্রয়োজন। বিষয়টি একই সঙ্গে মানবিক ও শিশুর ন্যায্য অধিকার এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিন।