জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতেই হবে

325

গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার রেশ ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই শোলাকিয়া ঈদগাহের পাশে হামলা চালায় জঙ্গিরা। বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার কাছাকাছি সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় জঙ্গি হামলা হয়েছে। মদিনায় জঙ্গি হামলা হয়েছে। সূত্রটা একই আইএস। ২০১৪ সালে তথাকথিত এই ‘ইসলামিক স্টেটের’ আবির্ভাবের পর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে  ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে তরুণ-তরুণীরা অর্থাৎ আইএস বিশ্বব্যাপী যে সন্ত্রাসী তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, গেল এক বছরে সিরিয়া-ইরাক বাদে বিশ্বের সর্বত্র যেসব জঙ্গি হামলা হয়েছে, তাতে মারা গেছে প্রায় এক হাজার ২০০ জন। আমাদের দেশে একের পর এক অভিযান সত্ত্বেও জঙ্গিরা তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকু-ে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান লাভ সে প্রমাণই বহন করছে।জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা প্রশংসাযোগ্য। তবে জঙ্গি হুমকি মোকাবিলায় শুধু অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের গ্রেফতার বা হত্যা করাই যথেষ্ট নয়। জঙ্গি দমনে কৌশলগত পদক্ষেপের বিষয়টিও জরুরি। বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে জঙ্গি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঠেকাতে হবে। দুনিয়ার কোনো ধর্মে মানুষ হত্যা এবং সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ জোগানো হয়নি। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। জঙ্গিবাদের উত্থান রোধে মধ্যযুগীয় মানসিকতার অবসান ঘটিয়ে আধুনিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে। জঙ্গিবাদের উত্থান রোধে উগ্র মতবাদের প্রচার নিয়ন্ত্রণেরও উদ্যোগ নিতে হবে।   জঙ্গিবাদীদের তত্পরতার ওপর তীক্ষ নজরও রাখতে হবে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় অস্তিত্বের স্বার্থে সন্ত্রাসের বরপুত্রদের বিরুদ্ধে সব সামাজিক শক্তির সোচ্চার ভূমিকাও প্রত্যাশিত।সবচেয়ে বড় কথা জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব, বিভেদ, রেষারেষি ও অনৈক্য যদি থাকে, তাতে জঙ্গিরাই লাভবান হবে। এ ধরনের জঙ্গি হামলাকে আমরা একপাশে ঠেলে সরিয়ে রাখতে পারি না। কেননা এটা আমাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ একটা শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ। আমাদের জাতীয়তাবাদ সুসংহত। আমাদের সংবিধানে সকলের মৌলিক অধিকার স্বীকৃত। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সহজাত সম্প্রীতি আমাদের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও সাংবিধানিক মূল শক্তি। একে বিনষ্ট করবার যে কোনো চক্রান্ত জাতিকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করতে হবে।