ছয় শিশুর করুণ মৃত্যু

16

গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা হোক
শিশুদের জন্য যেসব আনন্দ-উপকরণ বা খেলার সামগ্রী রয়েছে, সেসবের মধ্যে বেলুন উল্লেখযোগ্য। রাজধানী বা অন্যান্য বড় শহরের রাস্তায়, ফুটপাতে প্রচুর বেলুন বিক্রি হয়। দোকানপাটেও বেলুন পাওয়া যায়, সেসব ফুলিয়ে নিতে হয়; সাধারণত মুখে ফোলানো হয়। খেলার কাজ চললেও সমস্যা হলোÍএগুলো ভাসমান থাকে না। তাই রাস্তায়-ফুটপাতে যেসব বেলুন পাওয়া যায়, সেগুলো শিশুদের বেশি পছন্দ। সেগুলো গ্যাসে ফোলানো হয়। ব্যবহৃত গ্যাস বাতাসের চেয়ে হালকা বলে এগুলো ভাসমান থাকে এবং ঊর্ধ্বগতিসম্পন্ন হয়। এগুলোকে ধরে রাখার জন্য সুতা বেঁধে রাখা হয়। যা হোক, এসব বেলুনে ব্যবহার্য গ্যাস (সাধারণত হাইড্রোজেন) নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যে সিলিন্ডারে গ্যাস রাখা হয়, সেটির বিস্ফোরণের ঝুঁকিও বেশ প্রবল। কখনো সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। রাজধানীর রূপনগরে বুধবার বিকেলে এক বেলুন বিক্রেতার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ থেকে এগারো বছর বয়সী ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ২০ শিশু ও এক নারী। বেলুন বিক্রেতা নিজেও আহত। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত বুধবার রাতেই বেলুনওয়ালাকে আসামি করে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশি পাহারায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের চার-পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যু ও ২২ জনের আহত হওয়ার ঘটনা অবশ্যই আশঙ্কাজনক বিষয়। ছয় শিশুর হঠাৎ মৃত্যু খুবই হৃদয়বিদারক। এ ধরনের ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে; সমাজকে বিহ্বল করে। শিশুদের জীবন নিরাপদ রাখার বিধিগুলো ঠিকমতো কার্যকর করা হয় নাÍএ প্রসঙ্গও উত্থাপিত হয়। যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তা নির্দিষ্ট মানদ- অনুযায়ী উৎপাদন করা হয় কি না, ব্যত্যয়ী উপাদান ব্যবহার করা হয় কি নাÍএসব প্রশ্নও ওঠে। সিলিন্ডারের মান সময়ে সময়ে যাচাই করা হয় কি? নিরাপত্তাবিধি মেনে এসব ব্যবহারের জন্য বিক্রেতাদের সচেতন করা হয় কি? শুধু শিশুর জন্য নয়, জননিরাপত্তার জন্যও ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার উচিত ব্যবহার্য উপকরণাদির শুদ্ধতা নিশ্চিত করা, সেগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা। যেসব উপকরণ, উপাদান ঝুঁকির কারণ, সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করা এবং বিকল্প নিরাপদ উপকরণ-উপাদানের ব্যবস্থা করা। শিশুর নিরাপত্তা জননিরাপত্তারই অংশ। শিশুর প্রতি বিশেষ নজর রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।