চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া শিউলীর খাতুনের ময়নাতদন্ত ও দাফন সম্পন্ন

50

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া শিউলী খাতুনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। শিউলী খাতুনের শ্বশুর বাড়ি উজিরপুরে জানাজা শেষে লাশের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতেই শিউলী খাতুনের বড় ভাই ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে শিউলী খাতুনের স্বামী নাজমুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছেন।
জানা যায়, গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. নাজমুস সাকিবকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট মেডিক্যাল টিম গঠন করে শিউলী খাতুনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্তের সময় মেডিক্যাল টিমের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন এবং আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির। ময়নাতদন্ত শেষে ডা. নাজমুস সাকিব বলেন, মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। লাশের কপালের কাছে একটি আঘাতের চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। নিহতের ডান পায়ে পচন দেখা গেছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে জানানো হবে। এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরেই নিহতের লাশ উজিরপুর নেওয়া হয়। উজিরপুর গ্রাম্য কবরস্থানে জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে নিহতের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
উল্লেখ্য, সাংসারিক ঝামেলা নিয়ে গত রোববার নাজমুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী শিউলী খাতুনকে মারধর করেন। এ সময় শিউলী তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগেও ভুগছিলেন শিউলী। অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা এ সময় নিহতের লাশ নিয়ে চলে যায়। পরে মৃত্যুর খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।