চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটির সমন্বয় সভা

317

রোগী ও স্বজনদের হয়রানী বন্ধে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক পুলিশ থাকবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিউিনিটি সাপোর্ট কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এই কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে আছেন পৌরসভার মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু ও সমন্বয়ক এবং সদস্য সচিব হিসেবে আছেন সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম।চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটির চেয়ার্পাসন ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু সভায় সভাপতির বক্তব্যে বলেন, হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সাপোর্ট কমিটির উদ্যোগে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম চলে আসছে। সদর হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কমিটি প্রতিটি সভায় যে সব আলোচ্য সূচী নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তা বাস্তবায়নে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা প্রতিনিয়তই উন্নতি করছে। হাসপাতাল চত্বরে নোংরা ও দূর্গন্ধে হাসপাতালের পরিবেশ দূষিত হতে না পারে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সদর হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করতে ও হাসপাতাল এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশের একজন এসআই সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবে বলে তিনি জানান।তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল চত্বরে সবসময় কিছু দালাল প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনিক সেন্টারের হয়ে কাজ করে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে গরীব অসহায় রোগীসহ তাদের স্বজনদের হয়রানী করে। এসব দালালদের চিহিৃত করে হাসপাতাল এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কসিটির সমন্বয়ক এবং সদস্য সচিব চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ও ডা. খায়রুল আলম।চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটির সভায় আলোচ্য সূচীর মধ্যে ছিল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ডাস্টবিনের সামনে পাকাকরণ ও পাবলিক টয়লেটের সামনে পাকাকরণসহ টিনসেড করা, আউটডোরে রোগীদের বসার জন্য বেঞ্চ/চেয়ারের ব্যবস্থা করা, জরুরী বিভাগের সামনে দুপুর ২টা থেকে পুলিশ নিয়োগের ব্যবস্থা করা, জরুরী বিভাগের পিছনে ও প্যাথলজির পিছনে দেওয়ালের সাথে স্টেইনলেস স্টিলের গ্রিল করা, লেবার ওয়ার্ড আরো ভালো মানের করা, দালাল নিয়ন্ত্রণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা, হাসপাতালের জন্য তিনটি ট্রলিম্যান নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করা, ইন্টারকম টেলিফোন ব্যবস্থা করার বিষয়ে আলোচনা করা, সিসি ক্যামেরার প্রয়োজন আরো ৬টি, রাত্রে হাসপাতালে একজন সিকিওরিটি গার্ড নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করা, নবনির্মিত হেল্পডেস্ক-এ বসার জন্য ১ জনকে নিয়োগ করার বিষয়ে আলোচনা, হাসপাতাল সড়ককে একমুখী করণ অনকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার ইফ্ফাত আরা জামান ঊর্মি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ইন্সপেক্টর গোলাম মোহাম্মদ, ডা. পরিতোষ কুমার ঘোষ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শামীম কবির, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের প্রতিনিধি ছিলেন মৌমিতা পারভিন, ডা. মো. আতিয়ার রহমান, মো. দেলোয়ার উদ্দিন দুলু সেক্রেটারী (সদর মডেল হাসপাতাল বাস্তবায়ন কমিটির), ডা. মো. একরামুল হক (সদর মডেল হাসপাতাল বাস্তবায়ন কমিটি), ডা. মো. আজিজুল হক (সদর মডেল হাসপাতাল বাস্তবায়ন কমিটি), ডা. আলী হোসেন, ডা. আকলিমা খাতুন, ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার ফেরদৌস আরা গিনি, ফেরদৌস আরা রোকেয়া প্রমুখ।
সভাটি সঞ্চালনা করেন সদর হাসপাতালের হেল্থ এডুকেটর মো. দেলোয়ার হোসেন।