চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদার ডুগডুগি পশুহাট থেকে ফেরার পথে পুড়াপাড়া-বিষ্ণুপুর সড়কে গাছ ফেলে পশুবাহী যানবাহনের গতিরোধ : গরু ব্যবসায়ীদের মারধর করে নগদ টাকা লুট : পুলিশের উপস্থিতিতে বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে পলায়ন : আটক ২

268

নিজস্ব প্রতিবেদক: দামুড়হুদার পুড়াপাড়া-বিষ্ণুপুর সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডুগডুগি পশুহাট থেকে ফেরার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অন্তত ছয়টি গাড়ির গতিরোধ করে লুটপাট চালায় সঙ্ঘবদ্ধ মুখোশধারী ডাকাতদল। এসময় বিষ্ণুপুরসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের গরুব্যবসায়ীকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে একটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। ডাকাতির শিকার পাওয়ার ট্রিলার চালক সূত্রে জানা যায়, গামছা দিয়ে মুখ বাধা অন্তত ১০/১২ জন ডাকাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় প্রায় ৬/৭টি পশুবাহী যানবাহনে থাকা গরুব্যবসায়ী ও রাখালদের জিম্মি করে নগদ টাকা ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় একটি ট্রাকেরও গতিরোধ করে আটকে রাখে তারা। ৬/৭ জনের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকারও বেশি লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। তবে পুলিশ বলেছে, ডাকাতি সংঘটিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পুলিশ পৌছায়। পুলিশের প্রতিরোধের মুখে একটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। এসময় ৩ হাজার টাকা ও একটি মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। এদিকে, অপর একটি সূত্র বলেছে, ছয়টি পশুবাহী যানবাহনে থাকা চালক ও গরুব্যবসায়ীদের জিম্মি করে পাঁচ লক্ষাধিক টাকারও বেশি ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা। এঘটনায় সন্দেহমূলকভাবে শফিক ও হীরক নামের দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, দামুড়হুদার ডুগডুগি পশুহাট গরু বেচাকেনা শেষে কয়েকটি আলমসাধু ও পাওয়ারট্রিলার নিয়ে ফিরছিলেন কয়েকজন গরুব্যবসায়ী ও গরুর রাখাল। তারা সবাই দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর, লক্ষ্মিপুর, গোপালপুর ও রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। সন্ধ্যায় ডুগডুগি থেকে ইফতার শেষে পুড়াপাড়া হয়ে বিষ্ণুপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কোষাঘাটা-পুড়াপাড়া মাঠের মধ্যে সড়কে ইপিল ইপিল গাছ ফেলে বেশকয়েকটি যানবাহনের গতিরোধ করে ডাকাতদল। গামছা দিয়ে মুখ বাধা অবস্থায় ৮/১০ জন ডাকাত ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চালক, গরুব্যবসায়ী ও রাখালের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় প্রায় সকলকেই দা’য়ের উল্টো পাশ এবং লাঠি দিয়ে মারধর করে। প্রায় একঘন্টা নির্বিঘ্নে লুটপাট চালানোর পর পুলিশের উপস্থিতিতে পিছু হটে ডাকাতদল। ডাকাতিকালে বিষ্ণুপুর ফাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় ৫০ গজ দূর থেকে সকলকে দাঁড়ানোর জন্য বলে। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে দাঁড়ানোর কথা বলার পর পালিয়ে যায় ডাকাত দল। এসময় তারা একটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে স্থান ত্যাগ করে। এরপরেই পুলিশ ও ডাকাতির শিকার সকলে ঘটনাস্থলের আশপাশ তল্লাশী করেও অবশ্য কাউকে খুজে পাইনি। এদিকে, বোমা বিষ্ফোরণের শব্দে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে ঘটনাস্থলে যায়। অবশ্য এলাকাবাসী পৌছানোর আগেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। ডাকাতির শিকার দামুড়হুদার বিষ্ণুপুর গ্রামের বড় মসজিদপাড়ার রুহুল আমিনের ছেলে পাওয়ারট্রিলার চালক হাসিবুল জানান, পাঁচটি গরু নিয়ে দুইজন রাখাল ডুগডুগি হাটে যায়। সেখানে একটি গরু বিক্রি হয় এবং চারটি গরু ফেরত নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো তারা। পথিমধ্যে কোষাঘাটা-পুড়াপাড়া মাঠের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি আলমসাধুর পিছনে তার গতিরোধ করে ডাকাতদল। সামনে আরও একটি ট্রাক দাঁড় করানো ছিলো। লক্ষ্মিপুর গ্রামে বালি ফেলে চুয়াডাঙ্গার দিকে ফিরছিলো ট্রাকটি। পাওয়ারট্রিলার থামানোর সাথে সাথে তিনজন এসে চালক হাসিবুলের গলাই ধারালো অস্ত্র দা ধরে গাড়ি তল্লাশী করতে থাকে। পরে পাওয়ার ট্রিলারের টুলবক্স থেকে নগদ ২ হাজার ৫শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। এসময় হাসিবুলের পিছনে আরও দুইটি গাড়ির গতিরোধ করে। হাসিবুল পিছনে তাকাতে গেলে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে ডাকাতরা। একইসাথে প্রত্যেক গাড়ির চালককে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে করে রাখে তারা। প্রায় একঘন্টা লুটপাট চালানোর পর বিষ্ণুপুর ফাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। প্রায় ৫০ গজ দূর থেকে পুলিশ সবাইকে দাড়াতে বলে। ডাকাতরা পুলিশ উপস্থিতিতে একটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। ডাকাতরা বিষ্ণুপুর গ্রামের মাঝের পাড়ার পিতামের ছেলে রেজাউলের কাছ থেকে নগদ ৭ হাজার টাকা এবং মাঠপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে রফিকসহ বেশকয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতদল এক গরুব্যবসায়ীর কাছে থেকে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে জানা গেলেও ডাকাতির শিকার ওই গরুব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় টাকার পরিমাণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এছাড়া, দামুড়হুদার গোপালপুর গ্রামের আবুর ছেলে বুদো, রমজানের ছেলে আশাদুল, ইবাদের ছেলে মহিবুল, কালাচাঁনের ছেলে আমিরুলসহ গরুব্যসায়ী কালু, রুহুল ও শিলু জানান, তারা সাত জন একই গাড়ীতে ছিলো। তাদের পিছনে ছিলো আরো পাঁচটা গাড়ি। তারা জানায়, সড়কের ওপরে একটা ট্রাক রেখে ৮/১০ জন মুখোশধারী ডাকাত তাদের আলমসাধুর গতিরোধ করে এবং তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় ৬টি আলমসাধুতে ৫ লক্ষাধিক টাকারও বেশি ছিনিয়ে নেয় বলে জানায় তারা।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ সমীকরণ’কে জানান, ডাকাতি সংঘঠিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পুলিশ পৌছায়। পুলিশের প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এসময় একজনের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা, আরেকজনের কাছ থেকে ৭০০ টাকা এবং একটি মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা। তবে, পাঁচ লক্ষ টাকা লুটের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমরা ডাকাতির শিকার সকলের সাথে কথা বলেছি।