চুয়াডাঙ্গায় ৯৯ জনসহ সারাদেশে অনুপস্থিত প্রায় ১৫ হাজার

81

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এইচএসসি সমমানের প্রথমদিনের পরীক্ষা সম্পন্ন
বিশেষ প্রতিবেদক:
প্রশ্নপত্র ফাঁস, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত টানা তিনঘন্টা পরীক্ষা চলে। এদিন সারাদেশের ১০টি বোর্ডে মোট ১৪ হাজার ৯৮৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ও অসাধু পন্থা অবলম্বন করায় ২৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা (আবশ্যিক), সহজ বাংলা ১ম পত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ১ম পত্র, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজিদ ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে বাংলা ১ম পত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
সারাদেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও এদিন ১৪ হাজার ৯৮৮ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো। সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় জেলায়ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোন প্রকার বহিস্কার বা অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি। মোট ১০ হাজার ৫৫২ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও জেলার চার উপজেলার ১৮ কেন্দ্রে মোট ৯৯ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল বলে জানায় জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখা। এরমধ্যে এইচএসসি (সাধারণ) ৮২জন, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ০১জন, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ১০জন এবং আলিম পরীক্ষার্থী ৬জন। এরআগে সকাল ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেন, নকলমুক্ত ও প্রশ্নফাঁস ছাড়াই এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কারণ, সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নকলমুক্ত পরীক্ষা নিতে হলগুলোতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মাঠে কাজ করছে একাধিক ভিজিলেন্স ও মোবাইল টিম।’
এদিকে, ঢাকা বোর্ডে মোট ৩ হাজার ৪০ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো। অসাধু পন্থা অবলম্বন করায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজশাহী বোর্ডে অনুপস্থিতির সংখ্যা ১ হাজার ৪৪৬ জন। এ বোর্ডে বহিষ্কার হয়নি কেউ। কুমিল্লা বোর্ডে অনুপস্থিতি ৮৫১, বহিষ্কার এক পরীক্ষার্থী। যশোর বোর্ডে অনুপস্থিতির সংখ্যা ১ হাজার ১৫৬ জন, বহিষ্কার করা হয়েছে একজন শিক্ষার্থীকে। এছাড়া চট্রগ্রাম বোর্ডে অনুপস্থিতি ৯৮৩ জন, বহিষ্কার একজন। সিলেট বোর্ডে ৭১৯ জন। বরিশাল বোর্ডে অনুপস্থিতি ৮০৩ জন, দিনাজপুর বোর্ডে অনুপস্থিতি সংখ্যা ১ হাজার ১৬২ জন।
অন্যদিকে, মাদরাসা বোর্ডে শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির সংখ্যা ২ হাজার ৬১৪ জন, বহিষ্কার সংখ্যা ১ জন। কারিগরি বোর্ডে অনুপস্থিতি ২ হাজার ২১৪ জন, শিক্ষার্থী বহিষ্কার ২২ জন। সব মিলিয়ে উপস্থিতি সংখ্যা ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৬০১ জন, অনুপস্থিতির সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৯৯ ও বহিষ্কারের সংখ্যা ২৭ জন। এবার দুই হাজার ৫৭৯টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৮১টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণির এ চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছে। ঢাকার বাইরে এবার বিদেশের আটটি কেন্দ্রে ২৭৫ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, এর মধ্যে ১২৭ জন ছাত্র, ১৪৮ জন ছাত্রী।