চুয়াডাঙ্গায় ৪৫ টাকার পেঁয়াজ কিনতে দীর্ঘ লাইন!

28

এস এম শাফায়েত, চুয়াডাঙ্গা:
প্লাস্টিকের লাল রঙা বস্তাভর্তি পেঁয়াজ নিয়ে একটি ট্রাক এসে দাঁড়াল চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে। জানা গেল টিসিবি ডিলারের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি তাদের উদ্দেশ্য। কোনো রূপ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এমন উদ্যোগ নিলেও মুহূর্তেই ভিড় জমে যায় শত শত ক্রেতার। কিছু সময় পর আনুষ্ঠানিকভাবে পেঁয়াজ বিক্রয় কার্যক্রমে উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। তাঁর নির্দেশনায় স্বল্পমূল্যে অধিক ক্রেতাকে পেঁয়াজ কেনার সুযোগ করে দিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ মাত্র ৪৫ টাকা কেজি দরে, ক্রেতা প্রতি এক কেজি করে বিক্রি করা হয়। এ সময় এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। লাইনে দাড়িয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবীরাও। পেঁয়াজের ট্রাকের সামনে ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায় কর্তৃপক্ষের সদস্যদের। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে চুয়াডাঙ্গার টাউন ফুটবল মাঠে ট্রাক ভিড়িয়ে ৪৫ টাকা কেজি দরে টিসিবি ডিলারের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির দৃশ্য এটি। কিন্তু তাতেও বাজারে পেঁয়াজের দামের ওপর কোনও প্রভাব পড়েনি। টিসিবি ডিলারের পেঁয়াজ যেখানে ৪৫টাকা কেজি, তার বীপরিতে চুয়াডাঙ্গার বাজারে পেঁয়াজের মূল্য তখনো ২শ ১০ থেকে ২শ ৩০ টাকা কেজি। আদৌ দাম কমার কোন সম্ভাবনা দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, চুয়াডাঙ্গার জন্য মাত্র চার হাজার কেজি পেঁয়াজ এসেছে। মঙ্গলবার থেকে টিসিবি ডিলারের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের প্রত্যেককে ৪৫ টাকা কেজি দরে এক কেজি করে পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পেঁয়াজগুলো আকারে বড় হলেও খুচরা ও পাইকারি বাজারের থেকে দাম কম হওয়ায় টিসিবির ডিলারের ট্রাক ঘিরে লম্বা লাইন দেখা যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর পেঁয়াজ কিনতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেন অনেক ক্রেতারা। পাশাপাশি খুচরা ও পাইকারি বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত টিসিবির এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গার নেজারত ডেপুটি কালেক্টর সিব্বির আহমেদ জানান, মজুদ থাকা পর্যন্ত প্রতিদিন এক টন করে পেয়াজ বিক্রি করা হবে।
কার্যক্রমে উদ্বোধনকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা বাজার কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।