চুয়াডাঙ্গায় সদ্য ঘোষিত দর্শনা থানায় না যাওয়ার দাবিতে মানববন্দন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান

274

প্রতিবেদক, হিজলগাড়ি:
চুয়াডাঙ্গা সদরের চার ইউনিয়নকে সদ্য ঘোষিত দর্শনা থানার অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন, সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বেগমপুর, তিতুদহ, নবগঠিত নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়নবাসী। গতকাল রোবরার বেলা ১১টায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সিদ্ধান্তে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন নিয়ে দর্শনাকে থানা ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁরা দর্শনা থানার মধ্যে না যাওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ সভা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোবরার বেলা ১১টায় চার ইউনিয়নের তিন শতাধিক নারী-পুরুষ দর্শনা থানায় অন্তর্ভুক্ত না থাকার জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকারের হাতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিভিন্ন দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানা রক্ষা সর্বদলীয় আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের নেতা হাবিবুর রহমান কাজল, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল হক মাছুম, আব্দুর রহিম, সদর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান টিপু, সুজাহান আলী জোয়ার্দ্দার, শান্তি জোয়ার্দ্দার, শামীম হোসেন মিজি প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা রক্ষা সর্বদলীয় আন্দোলন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল হক মাছুম বলেন, ‘বেগমপুর, তিতুদহ, নবগঠিত নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়নগুলো প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অন্তর্গত এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প আছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত যেকোনো সময়ের চেয়ে সন্তোষজনক। সদ্য ঘোষিত দর্শনা থানার মধ্যে আমাদের সদর থানার চারটি ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা সদর থানার বাসিন্দারা কোনোভাবেই সদ্য ঘোষিত দর্শনা থানার মধ্যে যাব না।’
যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুর রহিম বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দেওয়ানি ও ফৌজদারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা জজের অধীন আদালত, ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিসসহ উপজেলার সব অফিস, সদর হাসপাতাল, সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি উচ্চবালিকা বিদ্যালয়, ভি. জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি, জেলা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জেলা স্টেডিয়াম ইত্যাদি জেলা শহরে থাকায় আমরা ইউনিয়নবাসী যেকোনো একটি কাজে শহরে গেলে অন্য সব কাজও সেরে আসতে পরি।’
সদর থানা রক্ষা সর্বদলীয় আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক আওয়ামী লীগের নেতা হাবিবুর রহমান কাজল বলেন, ‘দর্শনা হলো দামুড়হুদা উপজেলাধীন একটি পৌরসভা। দুই উপজেলার অংশ নিয়ে থানা গঠিত হলে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হবে। দর্শনা কোনো উপজেলা শহর নয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে ২০ কি.মি. দূরে অবস্থিত হওয়ায় আমাদের এ চার ইউনিয়নবাসীর পক্ষে জেলা শহরের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সমন্বয় করে দর্শনায় গিয়ে দর্শনা থানার কাজ করা কঠিন ব্যাপার। এসব কারণে বেগমপুর, তিতুদহ, নবগঠিত নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়নগুলোকে দর্শনা থানায় অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’