চুয়াডাঙ্গায় ভাড়াটিয়া তুলে দিতে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

60

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা শহরের সরকারি কলেজ রোডে দোকানিদের দোকান ভাঙচুর করে জোরপূর্বক উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দোকান মালিকপক্ষ জাহিদুর রহিম জোয়ার্দ্দার বাবু, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে। গত বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকানিরা ও মালিকপক্ষ পাল্টাপাল্টি থানায় অভিযোগ করেছে বলে নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা কলেজ রোডে পশু হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত জাহিদুর রহিম জোয়ার্দ্দার বাবু খান তাঁর ১০টি দোকান ঘর চুক্তিভিত্তিক ভাড়া দেন। এর মধ্যে প্রায় সবারই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। গত তিন মাস আগে তিনি ওই দোকান ঘরগুলো ভেঙে অন্য প্রতিষ্ঠান করবেন বিধায় তাঁদেরকে দোকান ছাড়ার জন্য মৌখিকভাবে জানান।
দোকানিরা অভিযোগ করে বলেন, ‘গত তিন মাস আগে তিনি এসে আমাদেরক মৌখিকভাবে বলেন দোকান ঘর ছেড়ে দিতে। যেহেতু আমরা দীর্ঘদিন যাবত এখানে ব্যবসাবাণিজ্য করে আসছি। আমাদের অনেক ধার-দেনা পড়ে আছে। সময় লাগবে টাকাগুলো তুলতে। এর মধ্যে কোনো আলোচনা ছাড়ায় গত বুধবার সকালে দোকান মালিক বাবু জোয়ার্দ্দারের স্ত্রী সাহিদা রহিমা জোয়ার্দ্দার তার দুই ছেলে শাহিন রহিম জোয়ার্দ্দার ও সুমের জোয়ার্দ্দার উপস্থিত হয়ে আমাদের উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হইতে জোরপূর্বক সন্ত্রাসী কায়দায় উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালান। এসময় বিসমিল্লাহ মেডিসিন সেন্টারের স্বতাধিকার মোস্তফা কামাল আব্দুর রব (রানার) দোকানের কিছু অংশ শ্রমিক দিয়ে ভেঙে দেন।’ এতে রানার প্রায় ৮০ হাজার টাকা মতো ক্ষতি সাধন হয়। এরপর আবার দুপুরে আবার দোকান ঘর ভাঙতে আসলে আমরা বাধা প্রদান করলে তারা চলে যায়।’ দোকানিরা আরও বলেন, ‘আমরা এতো দিন ব্যবসা করে আসছি, আমাদের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যেমে সময় না দিয়ে দোকান উচ্ছেদ করাটা অযৌক্তিক। আমরা জেলা দোকান মালিক সমিতিকে এই বিষয়ে অবগত করেছি।’ এছাড়া এবিষয়ে সদর থানায় অভিযোগ মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে দোকানিরা করেছেন বলেও জানান।
ক্ষতিগ্রস্থ দোকানি মোস্তফা কামাল আব্দুর রব রানা বলেন, ‘এই দোকান নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর সহকারী জজ আদালতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের মিস ২৩/২৮, মিস ২৪/১৮ নং মামলা বর্তমানে বিচারধীন। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর মালিকপক্ষ তার জায়গা জোর-দখল করে দোকান পরিচালনা করছেন এমন একটি অভিযোগ করেন সদর থানায়। এরপর এবিষয়ে উভয়পক্ষ থানায় বসলে কোনো কিছু মীমাংশা হয়নি।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গায় জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর উভয়পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। এর মধ্যে মালিকপক্ষ কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তারা একবার বলছেন, মার্কেট করবো, আবার আরেকবার বলছেন বাড়ি বানাব। যেহেতু অনেকদিন ধরে দোকানিরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন, তাই তাদেরও সময় লাগবে চলে যেতে। এছাড়া শুনেছি মালিকপক্ষ দোকান ভাঙ্চুর করেছে, যেটা আইনসম্মত নয়।’
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি বলেন, ‘মালিকপক্ষ ও দোকানিরা উভয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। এর আগে উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসেও কোনো মীমাংশা করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন আদালত।’ এ বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের সাক্ষাত পাওয়া যায়নি।