চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, গুজব!

50

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এক নারীকে মৃত ঘোষণার তিন ঘণ্টা পর ওই নারী সামান্য নড়াচড়া করে ওঠে, এমন অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী ও তাঁর স্বজনেরা। পরে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবারও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় কর্তব্যের অবহেলার অভিযোগ এনে চিকিৎসকের ওপর উত্তেজিত হয়ে উঠে রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার শ্মশানপাড়ায় লাল চাঁদের স্ত্রী জেসমিন খাতুন (২৮) অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহানা খাতুন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরে তাঁর স্বজনেরা। প্রত্যক্ষদর্শী এক নারীসহ কয়েকজন বলেন, হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসার তিন ঘণ্টা পর মরদেহ গোসলের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। ঠিক এ সময় মৃত ঘোষণা করা জেসমিনের হাত ও তাঁর স্তন নড়েচড়ে উড়ে দেখতে পায়। পরে তাকে গরম দুধও খাওয়ানো হয়। তারা আরও বলেন, এ সময় স্থানীয় এক চিকিৎসককে তাঁরা ডেকে আনলে জেসমিন জীবিত আছে বলে জানান ওই চিকিৎসক। তবে এর সত্যতা জানার জন্য সাংবাদিকরা ওই স্থানীয় চিকিৎসককে অনুসন্ধান করে কোনো খোঁজ পাননি।
এদিকে এই ঘটনার পর আবারো চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়া আসা হয় জেসমিনকে। পুনরায় যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্বিতীয় দফায় জেসমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে হাসপাতালের ডিউটিরত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই।
নিহত জেসমিনের স্বামী লালচাঁদ বলেন, ‘আমি নড়াচড়া করতে দেখেনি। মৃতদেহের পাশে থাকা কয়েকজন আমাকে জানানোর পর আমি দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহানা খাতুন বলেন, বেলা তিনটার দিকে ওই নারীকে নিয়ে এলে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইজিসি করার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘণ্টা তিনেক পর আবারো ওই নারীকে নিয়ে আসলে ইসিজি করে দ্বিতীয় দফায় মৃত ঘোষণা করি। তিনি আরও বলেন, ‘আমার ওপরে কর্তব্য অবহেলা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা না বুঝে এসব গুজব রটাচ্ছে।’