চুয়াডাঙ্গায় বাসে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ!

57

নিয়ম মেনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে : মালিক সমিতি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা সড়কগুলোতে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। দুই মাসের অধিককাল পর করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শঙ্কা নিয়েই মানুষ গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের বাসে চাপতে থাকেন। বাস চালু হলেও সাধারণ যাত্রীদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। আবার নিজেরাও সমস্যার কারণ হচ্ছেন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন প্রতি ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি নেওয়ার কথা থাকলেও অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে। অপর দিকে পরিবহন মালিকেরা বলছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই কিলোমিটার প্রতি ভাড়া হিসেব করে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধিতেই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, অনেক যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে এসেছেন। টিকিট কাউন্টারগুলো থেকে টিকিট কেটে যাত্রীরা বাসে ওঠার সময় তাঁদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। সকালে যাত্রীর সংখ্যা কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা বাড়তে থাকে। এদিকে, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবহন শ্রমিকেরা আসন প্রতি ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি নেওয়ার দাবি করলেও যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা থেকে দামুড়হুদা নিয়মিত যাতায়াত করেন আলী হোসেন। তাঁর বাড়ি দামুড়হুদায়, চাকরি করেন চুয়াডাঙ্গা শহরে। তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত যাওয়া-আসা করি। আগে কখনোই ১০ টাকার বেশি ভাড়া দিইনি। আজ ২০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, একেকজন যাত্রীর আগে ভাড়া ছিল ১০ টাকা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ভাড়া হওয়ার কথা ১৬ টাকা। সেখানে নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। এটা ঠিক নয়।
অপর দিকে, যশোরে যাওয়া-আসা করেন আহমেদ আলী। তাঁর আত্মীয়ের বাসা যশোরে। লকডাউন উঠিয়ে দেওয়ায় তিনি আজও যশোর যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আগে ভাড়া ছিল ১ শ টাকা। আজ শুনছি ২১৮ টাকা। এটা তো দ্বিগুণেরও বেশি।
এ বিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মইনুদ্দিন মুক্তা বলেন, সরকারিভাবে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি পালনের চেষ্টা করেই পরিবহন চলছে। দূরপাল্লার গাড়িগুলোও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালানো হচ্ছে। ভাড়া মোটেও বেশি নেওয়া হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ৬০ শতাংশ বেশি নেওয়া হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা থেকে দামুড়হুদা ৯ কিলোমিটার। সরকারি হিসেবে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১.৪২ টাকা। সে হিসেবে চুয়াডাঙ্গা থেকে দামুড়হুদার ভাড়া ১২.৭৮ টাকা ছিল। সাধারণ যাত্রীদের কাছে আমরা ১০ টাকা করে নিতাম। এখন সে হিসেবেই সরকারি কিলোমিটার ভাড়ার সাথে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করলে হয় ২০.৪৪ টাকা। আবার চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোর ৯৬ কিলোমিটার। সরকারি হিসেবে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১.৪২ টাকা। সে হিসেবে চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোরের ভাড়া ১৩৬.৩২ টাকা ছিল। সাধারণ যাত্রীদের কাছে আমরা ১ শ বা ১২০ টাকা করে নিতাম। এখন সে হিসেবেই সরকারি কিলোমিটার ভাড়ার সাথে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করলে হয় ২১৮.১১ টাকা।’