চুয়াডাঙ্গায় দুই, ঝিনাইদহে একজনসহ সারা দেশে ২৫ জনের প্রাণহানি

111

ঘূর্ণিঝড় আমপানের ধ্বংসযজ্ঞ : ঘরবাড়ি-গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ঘূর্ণিঝড় আমপানের আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জেলা। প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়, জলোচ্ছাস ও অতিবৃষ্টিতে ভেঙে গেছে লাখ লাখ ঘরবাড়ি ও গাছপালা। উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের। অনেক জেলায় বিদ্যুৎ সরবাহ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া আম, বোরো ধান তরিতরকারিসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর সচলের পথে চট্টগ্রাম বন্দর। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ক্ষতির পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ এবং সাতক্ষীরা এলাকায় শুধু আমের আনুমানিক দুই হাজার কোটি টাকার বেশিক্ষতি হয়েছে বলে চাষিরা ধারণা করছেন। আম্পানে ভেসে গেছে খুলনায় ৫০ হাজার এবং বাগেরহাট জেলার ৪ হাজার ৬৩৫টি চিংড়ি ঘের। এতে কম পক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন চিংড়ি চাষিরা। আমফানের আঘাতে বিভিন্ন জেলায় ২৫ জনের মৃত্যুরও খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যশোরে গাছ চাপা পড়ে মা-মেয়েসহ ৮ নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীতে ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে ও মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে দুজন মারা গেছেন। ভোলায় গাছচাপা পড়ে ও ট্রলারডুবে দুই জন মারা গেছেন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াতে শাহাজান মোল্লা নামে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন দেয়ালে চাপা পড়ে। একই উপজেলার আমরাগাছী এলাকায় ৭০ বছর বয়সী গুলেনুর বেগম ও ইন্দুরকানীর উমিদপুরে ৫০ বছর বয়সী শাহ আলম ঝড়ের তাণ্ডবের সময় স্ট্রোক করে মারা গেছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা সদরে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বগুড়ায় বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন দু’জন । এছাড়া চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ, বরগুনা, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ ও রাজশাহীতে একজন করে। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে ঘূর্ণিঝড় আমফান ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। এ তাণ্ডবে চুয়াডাঙ্গায় দুইজনের, ঝিনাইদহে একজনের প্রাণহানিসহ ঘরবাড়ি-গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় ঘূর্ণিঝড় আমপানের হানায় দুইজনের প্রাণহানিসহ ঘরবাড়ি-গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে প্রায় ৮২ কিলোমিটার গতিবেগে বয়ে যাওয়া এ প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ে বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙে পড়ে ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আম ও পানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তরমুজ, মুগখেত ও আউশ ধানের বীজতলা অতিবৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তার ধারের বড় বড় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেই সাথে আংশিকভাবে প্রায় ৩৩ হাজার ৪ শ ও সম্পূর্ণভাবে ১ হাজার ৩০৫টি বসতবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের গতিবেগ ও বৃষ্টিপাত বাড়তে থাকে। প্রায় তিন ঘণ্টা চলে আমফানের তাণ্ডব। আমফানের কারণে পুরো চুয়াডাঙ্গা জেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে, ঝড়ের কারণে ঠিক কি পরিমাণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার হিসাব নিরুপণের কাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক সামাদুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে বুধবার ভোর থেকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি ও দমকা বাতাস। রাত ১০টা থেকে শুরু হয় আমপান। জেলায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮২ কিলোমিটার। বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৪৮ মিলিমিটার।
সরেজমিনে দেখে গেছে, জেলা শহর এবং সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া, নূরনগর, মাখালডাঙ্গা, দীননাথপুর, হায়দারপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডব চোখে পড়ে। বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে ও বাগানে অসংখ্য গাছ উপড়ে ও ভেঙে পড়েছে। অতিবর্ষণে ফসলের খেতগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসলের জমি থেকে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় গ্রামের রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও শহরের ওপরে এবং বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের ধারের বড় বড় গাছ রাস্তার ওপরে ভেঙে পড়ে। ফলে আটকে থাকা পণ্যবাহী মালগাড়ি, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের বিঘ্ন ঘটে। ঠিক একইভাবে বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সেবার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ লাইন দেওয়া হয়েছে। তবে এই সংবাদ লেখা অব্দি গতরাত ১০টা পর্যন্ত জেলার চার উপজেলার বেশিরভাগ স্থানেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।
গ্রামের মাঠগুলোতে পানের বরজ সমান হয়ে গেছে মাটির সঙ্গে, ফলন্ত কলাগাছগুলো ঘাড় ভেঙে ভেঙে পড়ে আছে। আর ১০-১৫ দিন পরেই যে আমগুলো ডাসা হয়ে পাকতো, সেগুলো ঝড়ে ঝরে পড়ে আছে গাছের নিচে। লিচু বাগানের ফল ধরা লিচু গাছ উপড়ে গেছে। ডুবে গেছে আউশের বীজতলা, মুগ, হলুদ, একাঙ্গীর মাঠ। পেপে ওমরিচ গাছগুলোর বেচে থাকার আশা নেই। সবজি ও তরমুজের মাচা ভেঙে উড়ে গেছে দূরে। এ ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়, আমফান যে ক্ষত দিয়ে গেল, গরীব অসহায় কৃষকের মনে তা নিরুপন যোগ্য নয়।
বেশকিছু স্থানে দেখা গেছে কৃষকেরা খেত থেকে পানি বের করে দিচ্ছে, উপড়ে পড়া গাছগুলো শক্ত খুটি দিয়ে সোজা করে দেওয়ার চেষ্টা করা, গাছের গোড়ায় মাটি উচু করে দেওয়া, সবজির মাচাগুলো ঠিক করাসহ তাঁরা সাধ্যমত চেষ্টা করছে। অপর দিকে, পাখির গ্রাম বেলগাছিতেও তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে আমফান। গাছ-গাছালি ও পশু-পাখির অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবুও বিল-খালে পানি, আর সেই পানি ভেওয়া চালিয়ে শিশুদের আনন্দ-উল্লাস করতেও দেখা গেছে। তবে সেই আনন্দের অন্তরালে জমির একপাশে কৃষকের নিদারুন কষ্টে পানি ছেকে বের করা আর বুকভরা কষ্টও চোখে পড়ার মতো।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৪টি পৌরসভা এ দুর্যোগের কবলে পড়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৪৯ হাজার ৫০ জন, আলমডাঙ্গায় ১৬ হাজার দামুড়হুদায় ৯ শ, জীবননগরে ১ লাখ ২০ হাজার জনসহ মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৫০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ১ হাজারটি বাড়ি আংশিক ও ৪৫৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১ হাজার ৬ শ টি বাড়ি আংশিক ও ৮৫০টি বাড়ি সম্পূর্ণ, দামুড়হুদা উপজেলার ৮ শ টি বাড়ি আংশিক এবং জীবননগর উপজেলার ৩০ হাজারটি বাড়ি আংশিকভাবে ভেঙে গেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য-সহায়তা প্রদান করেছেন। জেলা প্রশাসন এবং চার উপজেলার উপজেলা প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় আমফানের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহযোগিতা প্রদান করাসহ বিভিন্ন নানা প্রকার কাজ করছে।
অপর দিকে, রাত থেকেই রাস্তার ওপরে পড়ে থাকা গাছপালা সরানো, ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে পৌঁছানোসহ ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪১টি পরিবারকে খাদ্যসহায়তাও প্রদান করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আমপানে আম, কলা, পান, লিচু, বোরো ধান, সবজি, ডালসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলায় আম বাগানের জমির পরিমাণ ১ হাজার ৯৮০ হেক্টর। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাগানের পরিমাণ ১ হাজার ১৭২ হেক্টর জমি। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৫৩১ হেক্টর, আলমডাঙ্গায় ২৪১ হেক্টর, দামুড়হুদায় ১৬০ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় ২৪০ হেক্টর জমি। জেলায় কলার মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ১ হাজার ৮০৪ হেক্টর। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৬৬৪ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১৫২ হেক্টর, আলমডাঙ্গায় ২২৫ হেক্টর, দামুড়হুদায় ৮৭ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় ২০০ হেক্টর জমি। জেলায় শাক-সবজি চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৭ হাজার ৩৭৫ হেক্টর। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ১ হাজার ৭৭৪ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৬৭৩ হেক্টর, আলমডাঙ্গায় ৩৭৫ হেক্টর, দামুড়হুদায় ৪৩০ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় ২৯৬ হেক্টর জমি। পানের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ১ হাজার ৬১৭ হেক্টর । ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৬১৭ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২০৪ হেক্টর, আলমডাঙ্গায় ৩৬০ হেক্টর, দামুড়হুদায় ৪২ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় ২১ হেক্টর জমি। আউশ বীজতলা সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। জেলায় মোট বোরো ধানের জমির পরিমাণ ৩১ হাজার ৭২৫ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২ হাজার ৩১০ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২৪০ হেক্টর, আলমডাঙ্গায় ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর, দামুড়হুদায় ৩৬০ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় ১৮০ হেক্টর জমি। জেলায় মোট মুগের আবাদী জমির পরিমাণ ১ হাজার ২১০ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ১ হাজার ২১০ হেক্টর। অর্থাৎ পুরো আবাদী মুগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর, আলমডাঙ্গায় ৫০ হেক্টর, দামুড়হুদায় ৬০ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমি।
চুয়াডাঙ্গা গাড়াবাড়িয়া গ্রামের আমবাগান মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতির শেষ নেই। বেশ কিছু গাছ ভেঙেছে। আর ঝড়ে গাছের ৭০ ভাগ আমই পড়ে গেছে। যদিও ভালো ফলনের আশা করেছিলাম, তবে হয়ত তা আর হবে না। এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে সংকটময় পরিস্থিতি। তারওপর আবার ঘূর্ণিঝড় আমফান যে ক্ষতি করল, তা পোষাবার নয়।
দীননাথপুর গ্রামের কৃষক আতাউল হক বলেন, আউস ধানের বীজতলা করেছিলাম। অতিরিক্ত পানির কারণে বীজতলা পুরোটাই ডুবে গেছে। ধার-দেনার চাষ, এবার কি যে হবে, বুঝতে পারছি না।
হায়দারপুর গ্রামের বোরো ধানচাষি সাঈদ বলেন, ধান সব পানিতে শেষ। মোটামুটি কিছুটা কাটতে পারলেও বেশি অংশটাই জমিতেই ছিল। তবে সবই এখন পানিতে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলী হাসান জানান, আমফানের ঝড়, বৃষ্টিতে আমসহ সব প্রকার ফসলের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ক্ষতি হয়েছে। তবে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমের। অপরদিকে এই ঝড়ে ঠিক কি পরিমাণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা নিরুপণের কাজ চলছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহয্যের জন্যও বলা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে আমরা কাজ করে চলেছি। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা থেকে শুরু করে ঘূর্ণিঝড় আমপান মোকাবিলায়ও আমরা কাজ করেছি। রাতেই ঝড়ের মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে সড়কে ভেঙে পড়া গাছ সরিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। সারারাত মাঠে থেকে কাজ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনেও পুলিশ সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি ঠিক করার কাজও করেছে। সহযোগিতা করা হয়েছে বেশকিছু অসহায় পরিবারকে। মানুষের পাশে দাঁড়াবার জন্য পুলিশ সদস্যরা সর্বদা প্রস্তুত।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘করোনার এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেই আমি উপজেলাগুলোতে ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সাহায্য-সহযোগিতাও করা হয়েছে বেশ কিছু স্থানে।’ বাড়িঘরের ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, জেলা প্রশাসক বলেন, ক্ষয়-ক্ষতির একটি তালিকা করে খাদ্য, টিনসহ নগদ অর্থের সাহায্যের জন্যও মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এছাড়াও ক্ষয়-ক্ষতির পুরো নিরুপণের তালিকা করার কাজ চলছে।
ঘূর্ণিঝড়ে দুইজনের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, জীবননগরে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকেও সহযোগিতা করা হবে। ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কৃষি বিভাগকে আমি নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের কাজ চলছে। সহযোগিতার জন্য আমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত আকারে জানানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আমফানে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ২৫০টি কাঁচা, পাকা, আধাপাকা বাড়ি-ঘরসহ কৃষিপণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত বুধবার রাত ৮টা থেকে টানা সারা রাত ঝড়-বৃষ্টির ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একটি টিম উপজেলা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তাঁরা দেখতে পান, উপজেলায় ১ হজার ৬ শ বাড়ি ঘরে আংশিক ক্ষতি হয়েছে এবং পাকা, আধাপাকা, কাঁচা ঘর প্রায় ৮৫০টি পুরা ভেঙে গেছে। কৃষি বোরো ধনের জমি প্রায় ২১০ হেক্টর, কলা, পানবরজ, সবজিসহ অন্যান্য ৬৯০ হেক্টর জমি এবং মৎস্য চাষের ১০৭ দশমিক ৭ হেক্টর জমি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। কাঁচা বাড়ি প্রায় ১ হাজার ৪ শ, পাকা টিনের ঘর ৬০টি ভেঙে গেছে। এ ছাড়াও শত শত গাছ ঝড়ে ভেঙে গেছে। এতে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। পৌর এলাকাতেও ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ঘর-বাড়িসহ গাছপালা, আধাপাকা ঘর, কাঁচা ঘর, পাকা ঘরের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। প্রায় শতাধিক গাছ ভেঙে গেছে।
জীবননগরে গাছ চাপা পড়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু:
জীবননগরে ঘূর্ণিঝড় আমপানের তাণ্ডবে গাছ চাপা পড়ে স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার গভীর রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্কুলছাত্র জুবায়ের (১২) বৈদ্যনাথপুর গ্রামের আত্তাব হোসেনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার রাতে পরিবারের সবার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে জুবায়ের। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডব শুরু হলে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরের ওপর জাম গাছ পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই স্কুলছাত্র জুবায়েরের মৃত্যু হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনার সংবাদ শুনে নিহতর পরিবারের বাড়িতে ছুটে যান জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম। এদিকে, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

জীবননগরে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডব:
জীবননগরে ঘূর্ণিঝড় আমপানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে ঘরবাড়ি, আমবাগানসহ ফসালাদি। এ তাণ্ডবের ফলে বিদ্যুতের তার ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গোটা এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
জানা যায়, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে শুরু হয় হালকা বৃষ্টি। রাত সাড়ে ১১টার দিক থেকে শুরু হয় বৃষ্টির সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়। মুহূর্তের মধ্যে জীবননগর শহরে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে ঘরবাড়ি। এ ঝড়ের ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আম, পেপে, কলা ও মুগ চাষিদের। এদিকে, রাস্তার পাশের গাছ বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর পড়ায় গোটা উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া রাস্তার ওপর গাছ পড়ে থাকায় জনসাধারণের চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের আমচাষি সাইফুল ইসলাম, মিলন মিয়া ও মিণ্টু মিয়া বলেন, ‘এবার বাগানে প্রথম থেকে আম ছিল কম। তারপরও যা ছিল, মোটামুটি খরচ-খরচা বাদ দিয়ে কিছুটা লাভ হত। কিন্তু বুধবার রাতে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সব গাছের আম পড়ে মাটিতে লুটিয়ে আছে। বাগানে এবার আমাদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে।’
সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন মঈন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আমফাানের কারণে আমার ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ইউনিয়নের গঙ্গাদাশপুর, কয়া, যাদবপুর, হরিপুরসহ বেশ কিছু গ্রামে অনেক অসহায় মানুষের ঘর উড়ে গেছে। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতটুকু পারি, তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে।’
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আম, পেপে, কলা ও মুগ চাষিদের। কৃষি অফিস থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের তালিকা তৈরি করে তাদের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে।’
আন্দুলবাড়ীয়ায় ঝড়ের কবলে পড়ে নারী আহত:
জীবননগরে ঘূর্ণিঝড় আমপানের কবলে পড়ে এক নারী আহত হয়েছেন। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত নারী জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের হারদা পাড়ার মৃত আলাউদ্দীনের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৪০)। পরিবারের সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে।
জানা যায়, ঝড়ের মধ্যে রাবেয়া খাতুন তাঁর নাতিকে খুঁজতে বের হন। এ সময় রান্নাঘরের একটি টালি উড়ে এসে তাঁর মাথায় পড়ে। এতে রাবেয়া বেগম গুরুতর জখম হন। রাতেই তাঁকে স্থানীয় চিকিৎসকের নিকট নেওয়া হয়। পরে সকালে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লোক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা রাবেয়াকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এ সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে রেফার্ড করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহানা আহমেদ বলেন, মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। তাঁর মাথার ওপরের চামড়াসহ মাথার খুলিতে আঘাত লেগেছে। তাঁর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

মেহেরপুরে আমপানের তাণ্ডবে ঘর-বাড়ি ভাঙচুর:
মেহেরপুরে ঘূর্ণিঝড় আমপানের তাণ্ডবে ঘর-বাড়ি ভাঙচুরসহ চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন আম-লিচুর চাষিরা। গত বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মেহেরপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় আমফান। বাতাসের গতিবেগ ছিল ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। এতে মেহেরপুরে ফল ও উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে আম ও লিচুর। এ ছাড়া জেলায় ছয় শতাধিক ঘর-বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি জানান, জেলার তিন উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৬২০টি পরিবার আংশিক ও ২৫০ পরিবার সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমফানে দুর্গত মানুষের সংখ্যা ২১ হাজার। পাঁচ শতাধিক ঘর-বাড়ি আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের পূনর্বাসনের জন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষিদের পুনর্বাসন করার প্রক্রিয়া চলছে।’
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুল হক মিঞা জানান, জেলায় এ বছর ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আম, ৬৩০ হেক্টর জমিতে লিচু ও এক হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ করেছেন চাষিরা। এর মধ্যে আম-লিচু ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ শতাংশ। এছাড়া ৯৮ শতাংশ ধান হার্ভেস্টিং হয়ে যাওয়ায় ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের হিসাব-নিকাশ করে খামারবাড়িতে পাঠানো হবে।
আমচাষি সাখাওয়াত হোসেন জানান, ঝড়ে আমের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। গাছ থেকে পড়ে গেছে অধিকাংশ আম। এক দিকে করোনা, অন্যদিকে আমফান ঝড়ে আমচাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
মেহেরপুর সদরের ঝাউবাড়িয়া গ্রামের লিচুচাষি রায়েদুল জানান, তাঁর চার বিঘা জমিতে লিচু ছিল। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ঝড়ে ৬০ ভাগ গাছের লিচু ফেটে গেছে। গাছ থেকে লিচু ঝরে পড়েছে। এ বছর করোনার কারণে বাইরের জেলা থেকে কোনো ব্যবসায়ী জেলায় আসেননি। যার কারণে আগাম লিচুর বাগান বিক্রি করতে পারেননি।
মেহেরপুর সদরের কলাচাষি রাশিদুল জানান, তিনি এ বছর তিন বিঘা জমিতে কলার আবাদ করেছেন। তাঁর ৮৫ ভাগ কলার গাছ ভেঙে পড়েছে। তিনি এ বছর ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

ঝিনাইদহের হলিধানীতে গাছ চাপায় নারীর মৃত্যু:
ঝিনাইদহে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে গাছ চাপায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাত রাত ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী রেশম বোর্ড সংলগ্ন সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারী ওই গ্রামের হতদরিদ্র বদর উদ্দিনের স্ত্রী নাজেরা বেগম (৫৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বদর উদ্দিন ও তাঁর দুই ছেলে। মৃত্যুকালে ওই নারী ৬ সন্তান ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নিহত ওই নারীর ছেলে আশরাফুল জানান, ‘রাতে যখন আমাদের ঘরে গাছ পড়ে, তখন অনেক ডাকাডাকি করেও কাউকে পাশে পাইনি। সকালে ফায়ার সার্ভিস এসে গাছ কেটে আমার মাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। সকালে ডিসি স্যার এসে আমাদের ২০ হাজার টাকা ও ২০ কেজি চাল দিয়ে গেছেন।’
নিহতের স্বামী বদর উদ্দিন জানান, ‘আমরা গরীব মানুষ। আমাদের থাকার মতো নিজস্ব কোনো জমি নেই। তাই দীর্ঘদিন স্ত্রী সন্তান নিয়ে এই খাল পাড়ে আছি। সরকারি একটা ঘরের জন্য জনপ্রতিনিধি নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি কিন্তু কাজ হয়নি। কারণ আমরা গরীব মানুষ। এ পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি আমাদের খোঁজ নেইনি। বুধবার রাতে যখন ঝড় ওঠে, তখন আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করেই জেগে ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমার স্ত্রীকে এভাবে নিয়ে গেল! এটা মানতে পারছি না। আল্লাহ আমাকে নিয়ে গেল না ক্যান।’ এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে।