চুয়াডাঙ্গায় গরু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

57

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার নতুন ভান্ডার দোহায় সানোয়ার হোসেন (৩৫) নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঈদের দিন সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ভান্ডার দোহা গ্রামের রাস্তাপাড়া মোড়ের একটি চায়ের দোকানে তাঁকে পিটিয়ে গুরতর আহত করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সানোয়ার হোসেনকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। গত মঙ্গলবার ভোরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের নতুন ভান্ডার দোহা গ্রামের মৃত নুর হোসেন ম-লের মেজো ছেলে সানোয়ার হোসেন, তাঁর বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ও ছোট ভাই মানোয়ার হোসেন ৭ আগস্ট স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিজেদের ২টি গরুসহ মোট ১৬টি গরু নিয়ে ঢাকা উত্তরা হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে যান। ৮ আগস্ট তাঁদের দুটি গরু ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও ওই টাকা চুরি হয়ে যায়। নিরূপায় হয়ে তাঁরা ঈদের দিন বিকেলে গ্রামে ফিরে আসেন।
নিহত সানোয়ারের ছোট ভাই মানোয়ার হোসেন জানান, ‘ঈদের দিন বিকেলে বাড়িতে ফিরে খাওয়া-দাওয়া সেরে সন্ধ্যার দিকে আমার ভাই সানোয়ার গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসেছিল। এ সময় ওই চায়ের দোকানে আমাদের গরু বিক্রির টাকা চুরির বিষয়টি উঠে আসে। একপর্যায়ে গ্রামের মৃত রাহাত ম-লের ছেলে সাইদুল ইসলাম চুরি হওয়া টাকা নিয়ে বিদ্রুপ করে আমার ভাইকেই চোর হিসেবে আখ্যায়িত করে। আমার ভাই সানোয়ার প্রতিবাদ করলে সাইদুল তাকে পেটাতে থাকে। তার বুকেও কয়েক দফায় লাথি মারে সাইদুল। এতে আমার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে আমার ভাইকে মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মারা যায় আমার ভাই।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু জানান, ‘সোমবার রাত নয়টার দিকে সানোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে কয়েকজন জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তাঁর কী সমস্যা হয়েছে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, গরু বিক্রিতে লস হওয়ায় সানোয়ার চিন্তিত ছিলেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে সানোয়ার স্ট্রোক করার মতো অসুস্থ বোধ করেন। আমি তাঁকে চিকিৎসা প্রদান করি। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আমি দেখিনি। সানোয়ারের অসুস্থতা বিবেচনা করে আমি তাঁকে হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করি। পরে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিই। পরদিন ভোরে রোগীর পরিবারের সদস্যরা রোগীকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান জানান, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, গতকাল দুপুরের দিকে নিহত সানোয়ারের মরদেহ রাজশাহী থেকে নিজ গ্রামে পৌঁছালে উত্তেজিত হয়ে ওঠে নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা। এ সময় সাইদুলের বেশ কয়েকজন স্বজনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাইদুলের পক্ষের লোকজন।