চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জন আক্রান্ত

31

মেহেরপুরে ১৫, ঝিনাইদহে ৩৩ ও কুষ্টিয়ায় ৬১ জনের করোনা পজিটিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮৯১ জনে। গতকাল করোনা শনাক্ত ২৩ জনের মধ্যে সদর উপজেলার মুক্তিপাড়ার করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ভৈরব মিয়া ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ৫ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ২ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ১ জন ও জীবননগর উপজেলার ১৫ জন রয়েছেন।
জানা যায়, গত রোববার করোনা আক্রান্ত সন্দেহে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দুজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির নমুনাসহ ৮০টি নমুনা সংগ্রহ করে। সংগৃহীত ৮০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করা হয়। গত সোমবার উক্ত ৮০টি নমুনার মধ্যে ৩২ জনের ফলাফল এসে পৌঁছায়। গতকাল মঙ্গলবার বাকি ৪৮ জনের নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। এর মধ্যে ২৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ ও ২৫ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ। গতকাল করোনা শনাক্ত ২৩ জনের বয়স ২৫ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত। পুরুষ ১৪ জন ও নারী ৯ জন।
গতকাল করোনা আক্রান্ত সন্দেহে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ১৬টি নমুনা সংগ্রহ করেছে। সদর উপজেলা থেকে ১৩টি ও আলমডাঙ্গা উপজেলার ৩টি নমুনাসহ সংগৃহীত ১৬টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের তথ্যে জানা যায়, গতকাল ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ফলোআপ নমুনাসহ ৬১টি, মেহেরপুরের ৪৫টি, ঝিনাইদহের ১০১টি, কুষ্টিয়ার ১৬৯টি নমুনাসহ ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করে চুয়াডাঙ্গায় নতুন ২৩ জন, মেহেরপুরে ১৫ জন, ঝিনাইদহের ৩৩ জন, কুষ্টিয়ায় ৬১ জনসহ মোট ১৭২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার ৬ জন ও ঝিনাইদহ জেলার ২ জনের ফলোআপ রিপোর্ট পজিটিভ। এছাড়া বাকিগুলোর ফলাফল নেগেটিভ।
অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গায় গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে হাজি আব্দুল মান্নান (৬০) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত হাজি আব্দুল মান্নান চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিনেমা হল পাড়ার মৃত ওয়াহাব মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, হাজি আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন যাবত সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। সেখানে তাঁর শরীরে করোনা উপসর্গ পরিলক্ষিত হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি করেন। ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে দিকে মৃত্যু হয় তাঁর।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৪ হাজার ১০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৩ হাজার ৯২৪টি, পজিটিভ ৮৯১ জন, নেগেটিভ ২ হাজার ৮৮৩ জন। জেলায় মোট সুস্থতার সংখ্যা ৪৩৭ জন ও মৃত্যু ১৪ জন।