চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গে বৃদ্ধের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৩ জন

18

সারা দেশে মৃত্যু ৪ হাজার ৮০০ ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৪৩ জনের, শনাক্ত ১৭২৪
সমীকরণ প্রতিবেদন:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭২৪ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪ হাজার ৮০২ জনে। মোট শনাক্ত ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৩৯ জন এবং এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরও জানানো হয়, ৯৪টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৬৪৮টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৪ হাজার ৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪১শতাংশ। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জহুরা বেগম (৬০) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৭১ জনে। নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দুজন ও দামুড়হুদা উপজেলার একজন রয়েছেন। তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। বয়স ৩৫ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। এদিকে, গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জহুরা বেগম (৬০) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১০ সেপ্টেম্বর করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা গ্রামের আব্দুর রশিদের রিপোর্ট পজিটিভ বলে নিশ্চিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস।
জানা যায়, গত সোমবার করোনা আক্রান্ত সন্দেহে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৩৫টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পাঠায়। গতকাল উক্ত নমুনার মধ্যে ৩৫টি নমুনার ফলাফলই সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে ৩টি নমুনার রিপোর্ট পজিটিভ ও বাকি ৩২টি নমুনার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। গতকাল বেলা দুইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জহুরা বেগমের মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন যাবত করোনা উপসর্গ জ্বর, ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ১৩ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত জহুরা বেগম চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ সম্ভুনাথ গ্রামের আফসার আলীর স্ত্রী।
এদিকে, ১০ সেপটেম্বর করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা গ্রামের আব্দুর রশিদের রিপোর্ট পজিটিভ বলে নিশ্চিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। তিনি দীর্ঘদিন যাবত করোনা উপসর্গ জ্বর, ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন রোগে আক্রান্ত অবস্থায় নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরে অবস্থায় অবনতি হলে ১০ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়ায় করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাঁর শরীর থেকে নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠায়। গতকাল জেলা সিভিল সার্জন অফিস আব্দুর রশিদের রিপোর্ট পজিটিভ বলে নিশ্চিত করে। গতকাল করোনা আক্রান্ত সন্দেহে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নতুন ৩০টি নমুনা সংগ্রহ করেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে ২৫টি, দামুড়হুদা উপজেলা থেকে ৫টি নমুনাসহ সংগৃহীত ৩০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির জানান, চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ৩ জনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছেন ২৭ জন। তবে করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং করোনা প্রটোকলে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৫ হাজার ৪১৭টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৫ হাজার ২৭৫টি, পজিটিভ ১ হাজার ৩৭১টি ও নেগেটিভ ৩ হাজার ৯০৪টি। গতকাল নতুন ২৭ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১১০০ জন ও মৃত্যু ৩২ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলায় গতকাল হোম আইসোলেশনে ছিলেন ২০৭ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ছিলেন ২০ জন।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গায় এ পর্যন্ত ২০ জন মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং চুয়াডাঙ্গায় হোম আইসোলেশন ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ৪ জনের। সব মিলিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।