চুয়াডাঙ্গায় ‘অরিন্দম সুহৃদ স্মরণ দিবস’ পালিত

65

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গায় ‘তব চেতনায় প্রাণিত অনুক্ষণ, মম তিমির বিদারী আলোর অন্বেষণ’ -শ্লোগানে অরিন্দম সুহৃদ স্মরণ দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জেলা শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্তমঞ্চে এ দিবসটি পালন করা হয়। এ পর্যন্ত সংগঠনের যে সব সদস্য ইহলোক ত্যাগ করে অর্ন্তলোকে পাড়ি দিয়েছেন তাঁদের সবাইকে একসাথে স্মরণ করে প্রতি বছর এই দিবসটি ‘অরিন্দম সুহৃদ স্মরণ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে গতকাল সকাল ৮টায় পতাকা উত্তোলন এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অরিন্দম সভাপতি বজলুর রহমান জোয়ার্দারের সভাপতিত্বে প্রয়াত ১৮জন সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে মোমবাতি জালিয়ে ‘আগুনের পরশ মনি ছোঁয়া ও প্রাণে’ গানের মাধ্যমে প্রয়াতদের জীবনীর উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম দিবসের তাৎপর্য পাঠ করে শোনান। প্রয়াত ১৮জন সদস্য হলেন- শফি উদ্দিন, ওয়াসিকুর রহমান জোয়ার্দ্দার বেলাল, খালেকুজ্জামান পিকলু, এস. আর. মালিক, মাবুদ মালিক, আবুল বাশার জোয়ার্দ্দার, শামসুল বারী সামু, ফজলুর রহমান জোয়ার্দ্দার, মনিরুল হক শাহ, মেজর (অব.) আলিউজ্জামান জোয়ারদার, ওয়ালিউর রহমান মালিক টুলু, এ্যাড. আব্দুল ওহাব, ফেরদৌস ওয়ারা সুন্না, শরিফ উদ্দিন বিশ্বাস, একরামুল হক মুক্তা, সহিদুল হক, হোসেন আলী ও আশু বাঙ্গালী। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পরলোকগত সদস্যদের পরিবারের পক্ষ থেকে অরিন্দমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শফি উদ্দিনের নাতনী শ্রাবণী ও প্রয়াত ওয়ালিউর রহমান মালিক টুলুর জামাতা সাংবাদিক বিপুল আশরাফ। এছাড়াও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সুধীজন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাহিদ হোসেন জোয়ার্দ্দার সোনা, সংলাপ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সভাপতি নজির আহাম্মেদ, উদীচী, চুয়াডাঙ্গার আদিল হোসেন, কবি হেলাল হোসেন প্রমুখ। আলোচনায় আরও অংশ নেন অরিন্দম-এর সহসভাপতি কাজল মাহামুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আলাউদ্দীন ও সদস্য দেলোয়ার হোসেন বাপ্পী। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে প্রয়াত শফিউদ্দীনের, আশু বাঙ্গালী এবং বজলুর রহমানের কবিতা পাঠ করেন অরিন্দম সদস্য কন্ঠশিল্পী শান্ত, মানিক এবং মাসুদ। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন অরিন্দম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম। আলোচকগণ তাঁদের আলোচনায় পরলোকগত সদস্যদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল ভূমিকা ও অবদান, তাঁদের ত্যাগ-তিতীক্ষা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন এবং নতুন প্রজন্ম যেন তাঁদেরকে অনুসরণ করে বর্তমান সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে পারে সেই আহবান জানান।