চুয়াডাঙ্গার ফাতেমা প্লাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা

335

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা শহরের ফাতেমা প্লাজা মার্কেটে মোটরসাইকেল-বাইসাইকেল রাখা নিয়ে ব্যবসায়ীদের দুইপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এসময় ঘণ্টাব্যাপি মার্কেটের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে সকল প্রকার ব্যবসায়ী কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। এ ঘটনায় মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কেটের মধ্যে ব্যবসায়ীদের মোটরসাইকেল-বাইসাইকেল রাখা নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় সকলের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সল প্রকার যানবাহন বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্ত বহাল ছিল এতোদিন। কিন্তু গতকাল সকালে হঠাৎ করে মার্কেটের মূল ফটকে দেওয়া বাঁশটি সরিয়ে দেন ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন ও মার্কেটের ব্যবসায়ী আবু সাঈদ। তাঁরা এসময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কারো সাথে আলোচনা না করেই মার্কেটের ভিতরে নিয়ে রাখেন। এতে ব্যবসায়ীরাসহ ক্রেতারা মোটরসাইকেল ও বাইকেল নিয়ে মার্কেটের ভিতরে প্রবেশ করতে থাকে। একপর্যায়ে এনিয়ে শুরু হয় বিশৃঙ্খল পরিবেশ। এতে ব্যবসায়ী সমিতির দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা বাঁেধ এবং পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ে। পরে এঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা মার্কেটের মূল ফটকে তালা মেরে সকল প্রকার ব্যবসায়ী কার্যক্রম বন্ধ রাখে। প্রায় দেড় ঘণ্টা মার্কেট বন্ধ থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় লেগে যায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘কম্পিউটার পয়েন্টের মালিক আবু সাঈদ ও মোবাইল জগতের মালিক মামুন ব্যবসায়ী সমিতির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে মার্কেটের ভিতরে নিজেদের মোটরসাইকেল নিয়ে রাখেন। এতে মার্কেটে বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এবিষয়ে আবু সাঈদ ও মামুনকে কিছু বললে তারা উল্টো ক্ষমতার জোর দেখায়। যার কারণে আমরা মার্কেট বন্ধ করে দিই।’
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ফাতেমা প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দেশে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করলে। করোনার সংক্রমণ রোধে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে ফাতেমা প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মার্কেটটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে করোনার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবার মার্কেটের কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে মার্কেট খোলা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মার্কেটের ভিতর ভিড় এড়াতে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সেবা নিতে আসা কাস্টমারদের সকল প্রকার যানবাহন বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকে। সে অনুযায়ী মার্কেটের মূল ফটক বাঁশ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্ত গতকাল দুজন ব্যবসায়ী হঠাৎ ঝামেলা পাকিয়ে বসলে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত ফাতেমা প্লাজার সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। যাহোক পরে পুলিশ এসে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। আমাদের মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডাক্তার গিলবার্ড বাপ্পি রায় অসুস্থ, তাই জরুরি সভা আহ্বান করা যায়নি। তবে দ্রুত জরুরি সভা ডাকা হবে।’
এবিষয়ে ফাতেমা প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মহররম আলী বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ফাতেমা প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ী মামুন ও আবু সাঈদ মার্কেটের মূল ফটকের বাঁশ খুলে দিলে ঝামেলা বাঁধে। এরই একপর্যায়ে ফাতেমা প্লাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দরা বাঁশ সরিয়ে ফেলার কারণ জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা মূল ফটকে তালা লাগিয়ে এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ফাতেমা প্লাজার ব্যবসায়ীদের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।’
এবিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘চুয়াডাঙ্গা শহরের ফাতেমা প্লাজা মার্কেটে ব্যবসায়ীদের নিজেদের দ্বদ্বের কারণে মার্কেট বন্ধ ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে মার্কেট পুনরায় খুলে দেয়।’