চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী ‘পারকৃষ্ণপুর-মদনা’ দেশের আদর্শ ইউনিয়ন

56

আওয়াল হোসেন:
চুয়াডাঙ্গা জেলাধীন দামুড়হুদা উপজেলার ভারতের সীমান্তবর্তী পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদ দেশের শীর্ষস্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, এ দাবি করেছেন ইউনিয়নবাসী। এ ইউনিয়নটি বিভাগীয় ও চুয়াডাঙ্গা জেলাপর্যায়ে মোট চারবার প্রথম স্থান অধিকার করেছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান এস এ এম জাকারিয়া আলম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা সবুজ-শ্যামল এ ইউনিয়নটি দামুড়হুদা উপজেলার সাজানো-গোছানো একটি ইউনিয়ন। দামুড়হুদা উপজেলার ১৩টি গ্রাম নিয়ে ১৯৯৪ সালে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথমবার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন খাজা আবুল হাসনাত। এরপর তৃতীয়বারে আব্দুল হামিদ এবং এস এ এম জাকারিয়া আলম ২য়, ৪র্থ ও ৫ম বারের মতো তিনবার নির্বাচিত হন। দর্শনা শহর হতে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত মীর্জা সুলতান রাজা ব্রিজ পার হলেই চোখে পড়বে এসব উন্নয়নের চিত্র। ১০ বর্গ কি.মি. আয়তনের এ ইউনিয়নে আছে ৬৬ দশমিক ৫ কি.মি. দিক নির্দেশনা-সংবলিত পাকা সড়ক। বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম জাকারিয়া আলম জানান, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী ৫৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে প্রতিটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রামের সড়কগুলো আলোকিত করা হয়েছে শতাধিক সোলার লাইট ও পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে।’ এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামের অলিগলিগুলোও বি বি ও ফ্লাট সোলিং করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রামের সঙ্গে যেমন সংযোগ সড়ক আছে, তেমনই উপজেলা ও জেলা শহরের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মীর্জা সুলতান রাজার নামে তৈরি রঙিন ব্রিজটি সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রতিটি বিদ্যালয়ে রয়েছে ডিজিটাল হাজিরা, শহীদ মিনার, পতাকা স্ট্যান্ড এবং ক্লাসরুমে শতভাগ ফ্যানের ব্যবস্থা। এ ছাড়া রয়েছে চেয়ার-টেবিল, আলমিরা, ফাইল ক্যাবিনেট ও সিসি ক্যামেরা। প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট। দূরের গ্রামের ছাত্রীদের মধ্যে বাই-সাইকেল বিতরণ করেছেন চেয়ারম্যান এস এ এম জাকারিয়া আলম। প্রতি মাসে এ ইউনিয়নে মাসিক সভা, চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভাসহ সব সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি তিন মাসে একবার উন্নয়ন কমিটির সভাসহ নিয়মিত স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া এ ইউনিয়নে নিয়মিত শিক্ষার মান উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিংসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
এ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, মন্দির ও ঈদগাহ সবার নজর কাড়ে। এ ছাড়া মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে মীর্জা সুলতান রাজা ব্রিজের পাশে একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক ও বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মিত হয়েছে, যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব উন্নয়নের ফলে বর্তমান চেয়ারম্যানের স্বর্ণপদক পাওয়াসহ জেলা পর্যায়ে তিনবার ও একবার বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে ইউনিয়নটি। এসব উন্নয়নমুখিতার কল্যাণে পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদকে বর্তমানে একটি আদর্শ ও দেশের শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন হিসেবে দাবি করছেন এলাকাবাসী।