চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়ায় শিশুকন্যার সাথে অনৈতিক কাজের চেষ্টার অভিযোগ : সমালোচনার ঝড় : টাকা দিয়ে ম্যানেজের অভিযোগ

280

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের এক শিশুকন্যার সাথে অনৈতিক কাজের চেষ্টা চালিয়েছে স্থানীয় এক বৃদ্ধ। গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাদরাসাপাড়ার ওই শিশুকন্যার বাড়িতে এ ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন মহিলার চোখে পড়ে। এসময় একই গ্রামের ছাগলাপাড়ার বৃদ্ধ আজিম্মেল ওরফে আজিমুদ্দি ওই মহিলাদের পা ধরে ক্ষমা চেয়ে পার পায়। পরে শুক্রবার রাতে ওই শিশুকন্যার পরিবারের হাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানায়।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামে পিতা-মাতা হারা এক শিশুকন্যাকে লালন-পালনের উদ্দেশ্যে নেয় সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের এক দম্পতি। আনুমানিক ১০ বছর আগে যখন ওই দম্পতি নিজেদের কাছে নিয়ে আসে তখন ওই শিশুর সবেমাত্র বয়স এক বছর তারপর থেকে গাড়াবাড়িয়া গ্রামের পালিত বাবা-মায়ের কাছেই সে বড় হতে থাকে। গত শুক্রবার সকালে গাড়াবাড়িয়া গ্রামের ছাগলাপাড়ার আবুল হোসেনের ঘরজামাই বৃদ্ধ আজিম্মেল (৫৫) চাষাবাদের জন্য গ্রামের মাদরাসাপাড়ার মাঠে যায়। মাঠে চাষ করার সূত্রে পার্শ্ববর্তী বাড়িতেও যাওয়া-আসা করতো সে। গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ওই বাড়িতে যায় বৃদ্ধ আজিম্মেল। এসময় বাড়িতে কেউ না থাকায় ১১বছর বয়সী শিশুকন্যাকে ভূলিয়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। ওই শিশুকে নাতনী বলে ডেকে ঘরের মধ্যে নিয়ে অনৈতিক কাজের চেষ্টাকালে স্থানীয় কয়েকজন মহিলা বিষয়টি দেখে ফেলে এবং বৃদ্ধ আজিম্মেলকে ঘরের মধ্যে ওই শিশুর মুখ চেপে ধরা অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে। এসময় বৃদ্ধ আজিম্মেল ওই মহিলাদের পা চেপে ধরে নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে পার পায়। শুক্রবার রাতে ওই শিশুর পরিবারের হাতে নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। স্থানীয় ২জন প্রভাবশালীর মাধ্যমে ওই টাকা তাদের হাতে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, এর সম্পর্কে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনায় স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে    টাকা নিয়ে ঘটনা চেপে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে, সেই সাংবাদিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং এই ঘটনায় ওই সাংবাদিকের সাথে কোন পক্ষের টাকা লেনদেন হয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।  এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরণের একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। তবে টাকা দেয়া-নেয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোন সত্যতা আমি পায়নি বলেও জানান তিনি। এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোজাম্মেল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আামার কিছু জানা নেই। এবং থানায় কোন পক্ষই কোন অভিযোগ করেনি। যদি অভিযোগ পাই তবে ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। চুয়াডাঙ্গার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের এক শিশুকন্যার সাথে অনৈতিক কাজের চেষ্টাকারি বৃদ্ধ আজিম্মেল ওরফে আজিমুদ্দি গতবছর এধরনের একটি অভিযোগ ছিলো বলে স্থানীয়রা জানায়। সে সময় একই ভাবে ঘটনাটি আড়াল করে বৃদ্ধ আজিম্মেল ওরফে আজিমুদ্দি। এঘটনার পর থেকে ওই শিশুকন্যাকে তার পালিত বাবা-মার বাড়ী পাওয়া যায়নি। এমনকি এবিষয়ে ওই শিশুকন্যার পরিবার মুখও খুলছে না। সচেতন মহল বৃদ্ধ আজিম্মেল ওরফে আজিমুদ্দি শাস্তি দাবি করেছে।