চীন-ভারত সংঘাত ও নেপালের নয়া মানচিত্র

46

করোনাভাইরাসের প্রাণঘাতী সময়ে চীন ও ভারতের সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং একজন কর্নেলসহ ২০ ভারতীয় সেনার মৃত্যু একটি বড় অশনিসংকেত। এ সংঘাতে চীনের পক্ষের একজন কমান্ডিং অফিসারসহ মোট ৪৩ জন নিহত হয়েছেন বলে অনেক সংবাদমাধ্যমসহ ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বেইজিং তাদের হতাহতের খবর স্বীকার করেছে, তবে সংখ্যা প্রকাশ করেনি। এ ঘটনা ঘটেছে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায়, যা বহু বছর ধরেই দু’দেশের সীমান্ত অশান্তির কারণ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ঘটনাটির দিকে গভীর মনোযোগ দিয়েছেন এ কারণে যে, এশিয়ার এ দুই বড় শক্তির মধ্যে সংঘর্ষটি এমন একসময়ে ঘটেছে, যখন নেপাল, যার সঙ্গে ভারতের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এককথায় প্রায় অবিচ্ছেদ্য, সে কিনা হঠাৎ করেই ভারতের উত্তরখণ্ড রাজ্যের কিছু অংশ দেশটির মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার মতো বড় পদক্ষেপ সম্পন্ন করেছে। বলা বাহুল্য, এ রকম পদক্ষেপের ফলে সামরিকভাবে না হলেও কূটনৈতিকভাবে নেপাল-ভারত সম্পর্কে বড় চিড় ধরেছে।
প্রথমেই চীন-ভারতের সংঘর্ষের কথায় আসা যাক। মে মাসের প্রথমদিকে যখন চীন ও ভারতের সেনাদের লাদাখ সীমান্তে প্রথম হাতাহাতি ঘটে, দুই দেশ তখন সেনা পর্যায়ের বৈঠক করেছে, ঘটনা যেন আর বাড়তে না পারে সে বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছে। কিন্তু এরই মধ্যে ১৫-১৬ জুনের বড় প্রাণহাণির ঘটনা ঘটল! দুই পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে, এ সংঘর্ষে কোনো গোলাগুলি চলেনি। রড, পাথর নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন দু’দেশের সেনারা। কিন্তু স্রেফ খণ্ডযুদ্ধে এত লোকের মৃত্যু হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। ভারতের দাবি, চীনা সৈন্যরা ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা’ না মানার ফলেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, দু’দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়, চীন তা মেনে চললে এই ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো। কিন্তু চীনের দাবি উল্টো। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়াং বলেছেন, ভারতীয় সেনারা সীমান্ত পেরিয়ে বিনা প্ররোচনায় তাদের বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। ফলে দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। চীনের সরকারি পত্রিকা ‘গ্লোবাল টাইমস’ ভারতের বিরুদ্ধে হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে।
সংঘাতের সূত্রপাত আপাতত একটি সীমান্ত সড়ক নির্মাণ নিয়ে হলেও পর্যবেক্ষকরা তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে পারছেন না। ভারত পরিষ্কার ভাষায় বলেছে, রাস্তাটি নির্মিত হচ্ছে ভারতের সীমানায়। কিন্তু চীন সন্তুষ্ট নয়। ভারতের অভিযোগ, চীনা বাহিনী ভারতীয় এলাকায় কয়েক কিলোমিটার অনুপ্রবেশ করে ৫ মে’র হাতাহাতি ঘটিয়েছে। এরপর থেকেই দুই সেনাবাহিনী মুখোমুখি। এরপর দু’দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। ১৫ তারিখ রাতেও চীনা সৈন্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় কর্নেল সন্তোষ বাবু, যিনি পরে নিহত হন। চীনারা প্রতিশ্রুতি মতো পিছিয়ে গেছে কিনা, তা দেখতে বৈঠকের এক ঘণ্টা পর ৫০ জন সৈন্য নিয়ে কর্নেল সন্তোষ টহলে যান। ঠিক তখনই প্রায় ২৫০ জন চীনা সৈন্য ভারতীয় সেনাদের ওপর হামলা চালায়, ঘটে অপ্রত্যাশিত রক্তপাত, বলেছে ভারতীয় পক্ষ।