চিনে ফেলায় সবেদাকে হত্যা করা হয়

44

মুজিবনগরে বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় মেহেরপুর এসপির প্রেস ব্রিফিং
মেহেরপুর অফিস:
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের বৃদ্ধা সবেদা খাতুনের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে মেহেরপুর পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে সবেদা খাতুন হত্যাকান্ড বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার এস.এম মুরাদ আলী বলেন, গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে বৃদ্ধা সবেদা খাতুন ১১টি ছাগল নিয়ে মাঠে চরাতে যান। তখন বাগোয়ান গ্রামের তারা শেখের ছেলে রাশেদ, দোলনের ছেলে হাজিবুল ও নেকবারসহ পলাতক অন্য একজন মিলে সবেদা খাতুনের দুটো ছাগল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাবেদা খাতুন একজনকে চিনে ফেলার কারণে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুটি ছাগল নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রায় এক মাস অক্লান্ত পরিশ্রমের পর মেহেরপুর ডিবি পুলিশ ও মুজিবনগর থানা পুলিশ রাশেদ, হাজিবুল ও নেকবারকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে রাশেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। এরপর হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে। এই হত্যাকান্ডের জড়িত অন্য এক ব্যক্তিকে আটকের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এসপি। তদন্তের স্বার্থে ওই আসামির নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।
উল্লেখ্য, মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী সবেদা খাতুন গত ৩০ অক্টোবর বিকেলের দিকে ১১টি ছাগল নিয়ে মাঠে ছাগল চরাতে যায়, কিন্তু সন্ধ্যার দিকে ৯টি ছাগল বাড়িতে ফিরে আসলেও সবেদা খাতুন মাঠ থেকে বাড়ি ফিরে না আসলে বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর আনন্দবাস গ্রামের মাঠ থেকে রাতে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার হয়। পরদিন সকালে পুলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মুজিবনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।