চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে টেস্ট লিখে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা

183

চুয়াডাঙ্গায় সদর হাসপাতালে বেড়েছে দালালের দৌরাত্ম্য, রেহাই পাচ্ছে না রোগী ও স্বজনেরা
আফজালুল হক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বেড়েছে দালালের দৌরাত্ম্য। কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না এই দালাল চক্রকে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতায় এই চক্রটি বেশ সক্রিয়। রেহাই পাচ্ছে না রোগী ও তার স্বজনেরা। সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থেকে রোগী ভর্তি করানোর পর ওয়ার্ডে না নিয়ে দালাল চক্রটি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে দিচ্ছে। এতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মোটা অংকের কমিশনও পাচ্ছে দালালেরা। এবার খোদ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. উৎপল্ল বিশ্বাস দালালের হয়রানির শিকার হয়েছেন। তার রোগীর ব্যবস্থাপত্রে নিজেরা টেস্ট লিখে রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
ডা. উৎপল্ল বিশ্বাস বলেন, ‘পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছিলাম। এ সময় মুখ চেনা একটি ছেলে এক রোগীকে নিয়ে এসে দেখতে বলে। আমি এই রোগীকে দেখে তার চিকিৎসাপত্রে দুটি ওষুধ লিখে দিই। কিন্তু কোনো প্রকার পরীক্ষা করতে বলিনি। এর কিছুক্ষণ পর ওই রোগী ৬ শ টাকার বিনিময়ে তিনটি টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট দেখাতে আসে। এ সময় আমি দেখি আমার স্বাক্ষরিত ব্যবস্থাপত্রে লেখা জাল করে তিনটি টেস্ট লেখা হয়েছে।’ এতে তিনিও ঘাবড়ে যান। তিনি আরও বলেন, এই তিনটি টেস্ট করানো হয়েছে অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। পরে তিনি বিষয়টি আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ও সিভিল সার্জনকে মৌখিকভাবে জানান।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান বলেন, ‘ডা. উৎপল্ল বিশ্বাস এ বিষয়ে মৌখিকভাবে আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’
সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এছাড়াও হাসপাতালে রোগীদেরকে নিয়ে গিয়ে যারা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাচ্ছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’