চার হাজার টিয়ার অন্নদাতা যিনি!

288

SEKHOR_BDP

বিস্ময় ডেস্ক: ২০০৪ সালের সুনামি দেখেছে তামিলনাড়ু।  সেই ভয়ঙ্কর সুনামি কেড়ে নিয়েছিল বহু জীবন। সেসব দেখে শিউরে উঠেছিলেন ভারতের চেন্নাইয়ের বাসিন্দা শেখর। সে সময়কার দুঃখের দিনে তার কাছে এসেছিল দুটি বুনো টিয়া। যেন মৃত্যুপুরীতে অরণ্যের সবুজ ঝিলিক। কোনওরকমে তাদের একটু খেতে দিয়েছিলেন তিনি। তখন চারিদিকে ধংস ও মৃত্যুর ছবি। তারই মাঝে সেই জোড়া টিয়া বাসা বেঁধেছিল শেখরের কাছে। সেখান থেকে শুরু হল অন্যরকম এক গল্প। এরপর ১০ বছর পার হয়েছে। সুনামির ভয়ঙ্কর মুহূর্ত ভুলতে বসেছেন সবাই৷ আর চেন্নাইয়ের ক্যামেরা মেকানিক শেখরকে ঘিরে নিয়েছে সবুজ টিয়ার দল। তাদের এখনও খেতে দেন শেখর। রোজ অন্তত ৪ হাজার টিয়া তার কাছে খেতে আসে। এখন ‘বার্ডমান’ হিসেবে পরিচিত হয়েছেন ৬২ বছরের শেখর। চেন্নাইয়ের রোযাপেট্টা এলাকায় থাকেন শেখর। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তার বাড়ির চারিদিকে ভিড় করে হাজারে হাজারে টিয়াপাখি। বাড়ির কার্নিশে, ছাদে, বিদ্যুতের তার ও খুঁটিতে শুধুই টিয়া আর টিয়া। শেখর জানালেন, সুনামির পর দুটো আশ্রয়হীন টিয়াপাখি এসে হাজির হয়েছিল। তাদের কিছুটা ভাত খাইয়েছিলাম। পরে সেই দুটো টিয়া আরও কিছু টিয়াকে টেনে এনেছিল। সেই থেকে শুরু। রোজই টিয়া আসতে শুরু করে। এখন এখানে তাদেরই রাজত্ব। পঁচিশ বছর আগে চেন্নাইতে এসেছিলেন ক্যামেরা মেকানিক শেখর। চড়–ই, কাক আর কাঠবিড়ালিদের খাওয়ানোর শখ ছিল। এখন টিয়াদের খাওয়ানোতেই মগ্ন শেখর। বাড়ির ছাদে বিশেষ আয়োজন করেছেন তিনি। সেখানেই ভাত দেওয়া হয় তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে টিয়ার দল। প্রতিদিন ভোর চারটের সময় উঠে পড়েন শেখর। প্রচুর পরিমাণ ভাত রান্না করেন। সেই ভাত ছাদে রাখা কাঠের পাটাতনে ছড়িয়ে দেন। এজন্য রোজগারের প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ হয়ে যায় তাতে কোনও কষ্ট নেই প্রবীণ শেখরের। তিনিই টিয়া রাজ্যের মধ্যমণি। ভয়ঙ্কর মুহূর্ত পার করে ক্রমে স্বাভাবিক হয়েছে চেন্নাইবাসীর জনজীবন। কিন্তু এখন চেন্নাইবাসী রোজই দেখেন বুনো টিয়াদের সুনামি। আকাশে সবুজ ঢেউ তুলে তারা রোজ ভোরে দখল নেয় মহানগরের নির্দিষ্ট মহল্লা।