চার উপজেলা থেকে ৮৮ জনকে বাছাই করা হবে

36

চুয়াডাঙ্গায় প্রতিভাবান ক্ষুদে ক্রিকেটার সংগ্রহে ট্যালেন্টহান্টের উদ্বোধন
বিশেষ প্রতিবেদক:
ছোট ছোট ক্রিকেটাররা ব্যাট-বল নিয়ে মাঠের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে অনুশীলনে মনোযোগী, চোখে স্বপ্ন। আপ্রাণ চেষ্টাÑক্রিকেটীয় স্বল্পজ্ঞান দিয়ে নির্বাচকদের সন্তুষ্ট করা। ওদিকে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অপেক্ষায় কারও বাবা, কারও মা। তাঁদের চোখে কৌতুহল, ‘আমার ছেলে পারবে তো নৈপূণ্য দিয়ে নিজের স্থান করে নিতে?’ এমনটা দেখা যাচ্ছিল চুয়াডাঙ্গা নতুন স্টেডিয়ামে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে। ‘মাদক নয়, স্বপ্নের ভবিষ্যৎ গড়ব ক্রিকেটে’ এ স্লোগানে গতকাল বুধবার প্রতিভাবান ক্ষুদে ক্রিকেটারের সন্ধানে বাছাই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। ট্যালেন্ট স্পোর্টস লিমিটেডের আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা নতুন স্টেডিয়ামে বাছাই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্যালেন্ট স্পোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল মাহমুদ সৈকত ও সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার ফাহিম মুনতাসির রহমান সুমিত।
চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা থেকে বোলার, উইকেট কিপার, ব্যাটসম্যানসহ ৮৮ জনকে বাছাই করা হবে। ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র, বয়স হিসেবে ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সীরা এ ট্যালেন্টহান্টে অংশ নিতে পারবেন। তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ হয়েছে, ৬ষ্ঠ থেকে ৭ম শ্রেণি ‘এ’ গ্রুপ, ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণি ‘বি’ গ্রুপ এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ‘সি’ গ্রুপ। প্রথম রাউন্ড হবে উপজেলায়, এরপর জেলা (দ্বিতীয়), বিভাগ (তৃতীয়) ও জাতীয় পর্ব (চতুর্থ) বাছাই হবে চার ধাপে। অংশগ্রহণকারী ২৬৪ জন ক্ষুদে ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকে বাছাই করে জাতীয় পর্যায়ে উত্তীর্ণদের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যেন প্রতিভাবান ক্ষুদে ক্রিকেটাররা ঝরে না পড়ে। দেশব্যাপী ট্যালেন্টহান্ট বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ট্যালেন্ট স্পোর্টস লিমিটেড ২০১৯ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১২ বছর মেয়াদী, প্রতিবছর একবার মোট ১২টি ট্যালেন্টহান্ট পর্বের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণের এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার ফাহিম মুনতাসির রহমান সুমিত বলেন, এ প্রোগ্রামের প্রধান লক্ষ্য আপামর ক্ষুদে ক্রিকেটারদের ক্রিকেটমুখী করে তোলা, যেন আগ্রহী ছাত্ররা পরবর্তীতে মাদকের দিকে অগ্রসর না হয়ে মাঠমুখী হয়। কার্যক্রমটি মাদকবিরোধী কর্মকা-ে সরকারের সর্বকালের সবচেয়ে বড় সহযোগী ক্যাম্পেইন।
প্রতিভাবান ক্ষুদে ক্রিকেটারদের সন্ধানে সংস্থার পরিচালক সোহেল মাহমুদ সৈকত বলেন, ‘অতীতে যে যাই করুক, আমাদের মূল লক্ষ্য উপজেলা পর্যায়ের ক্ষুদে প্রতিভাবানদের জন্যও সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। কে জানে সুযোগবঞ্চিত কোনো অবহেলিত উপজেলা থেকে অসাধারণ কোনো ক্রিকেটার উঠে আসবে, যে হয়ে উঠতে পারে দেশের ক্রিকেটের কা-ারি। আমরা সে লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছি।’
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, ছাত্র ও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম খেলাধুলা। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-যুবসমাজে আশঙ্কাজনক হারে মাদকের বিস্তার ঘটায় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির মুখে। তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সরকার নানামুখী কর্মকা- পরিচালনা করছে। বর্তমান-ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে সরিয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে ক্রীড়ামুখী করতেই ট্যালেন্টহান্ট চলছে। সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনের অভাবে প্রতিভা বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না তৃণমূলের অসংখ্য ক্ষুদে ক্রিকেটার। আবার ক্রিকেট লেভেলের কোচ, নির্বাচক ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসতে না পারায় তৃণমূল থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ হারাচ্ছে মোস্তাফিজুর রহমানের মতো হাজারো প্রতিভাবান ক্রিকেটার।
আজ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও আলমডাঙ্গা থেকে বাছাই করা হবে। এ ছাড়া প্রথম দিন দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা থেকে বাছাই করা হয়েছে।