চামড়ার বাজারে ধস

13

নাটের গুরুদের আইনের মুখোমুখি করুন
কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে এমন সংকট অতীতে কখনো দেখা যায়নি। বিক্রি করতে না পেরে মানুষ শত শত চামড়া ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে, না হয় মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি ব্যবসায়ীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। কেউ কিনছে না। দু-এক জায়গায় এমন দাম বলা হচ্ছে, যাতে পরিবহন খরচও উঠছে না। কেউ কেউ পাঁচ থেকে ১০ টাকায়ও চামড়া বিক্রি করেছে। এমন অবস্থায় সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারের সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে দেশের চামড়াশিল্পের সর্বনাশ হয়ে যাবে।
কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ পুরোটাই গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এ কারণে কোরবানির পশুর চামড়াকে ‘গরিবের হক’ বলা হয়। সেই চামড়া নিয়ে এমন তেলেসমাতি বা ‘সিন্ডিকেটবাজি’ যারা করতে পারে, তাদের কি ব্যবসায়ী বলা যাবে? তার পরও এই ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে প্রচুর সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, অন্যান্য বছরের মতো এবারও ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চামড়ার সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই দামও ছিল অনেক কম। তার পরও ট্যানারি মালিকরা নানা অজুহাত দেখিয়ে চামড়া কিনতে অনীহা প্রকাশ করতে থাকেন। আড়তদারদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের শত শত কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। অন্যান্য বছর ঈদের আগে কিছু পাওনা পরিশোধ করলেও এবার তারা তা করেনি বললেই চলে। এ অবস্থায় আড়তদাররাও চামড়া কিনতে পারছে না। ফলে বিপদে পড়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা কিছু চামড়া কিনলেও এখন তা বিক্রি করতে পারছে না। অনেক মাদরাসা-এতিমখানায় মানুষ চামড়া দান করে। সেসব চামড়াও বিক্রি হচ্ছে না। এ অবস্থায় তারা বাধ্য হচ্ছে সেগুলো ফেলে দিতে। এতে কি দেশের চামড়াশিল্পের ক্ষতি হচ্ছে না? ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য কি নিজের পকেট থেকে পরিবহনের খরচ দিয়ে বিনা মূল্যে তাদের চামড়া দিয়ে আসতে হবে? সরকারি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদের অভিমত, এই সিদ্ধান্ত আরো আগে আসা উচিত ছিল।
দেশে বার্ষিক চামড়ার জোগানের অর্ধেকই আসে কোরবানির সময়। এ সময় চামড়া বেচাকেনায় এমন পরিস্থিতি কেন হলো, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। অনেকেই মনে করে, এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত সিন্ডিকেটবাজি। যদি তা-ই হয়, তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। কাঁচা চামড়া কিংবা ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি অব্যাহত রাখতে হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। আমরা মনে করি, সরকার সঠিক পথেই হাঁটবে।