চাচাতো ভাইদের হাতে প্রতিবন্ধী নাজমুল জখম

78

আলমডাঙ্গার বড়গাংনীতে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ
বিশেষ প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার বড়গাংনীতে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নাজমুল হক (২৮) নামের এক বুদ্ধি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। একই ঘটনায় বসতবাড়ি ভাঙচুরসহ তার পরিবারের উপরেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার বেলা দুইটার দিকে বড়গাংনীর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের বড়গাংনী গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত হারুন অর রশিদের ছেলে নাজমুল হক। জন্মগত ভাবেই সে বুদ্ধি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের সঙ্গে। শনিবার এমনি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাচা মাহতাব উদ্দীন (৫৫), তার দুই ছেলে মাহফুজুর রহমান (২৫) ও হাদিসুর রহমান (২২) এবং একই গ্রামের মনা হোসেনের ছেলে নাঈম (২০) লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিবন্ধী নাজমুলের উপর হামলা চালায়। তাদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন স্ত্রী রুপালী খাতুনও। একপর্যায়ে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে তাদের হাত থেকে পরিবারটিকে রক্ষা করে। পরে গুরুতর জখম নাজমুল হককে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ প্রসঙ্গে জখম নাজমুলের স্ত্রী রুপালী খাতুন বলেন, ‘শশুর মারা যাওয়ার পর আমার স্বামীকে জমিজমার ভাগ না দিয়ে তা দখল করে রেখেছে আপন চাচাশশুর ও তার ছেলেরা। এমনকি আমাদের বসতবাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা না থাকায় অন্যের কাছ থেকে জমি কিনে সেই রাস্তা দিয়ে আমরা যাতায়াত করি। কিছুদিন আগে আমাদের রাস্তা কেটে পয়ঃনিষ্কাশনের ক্যানাল তৈরি করে তারা। আমার স্বামী রাস্তা থেকে তাদের ক্যানাল সরিয়ে নিতে বললে তারা এ কথা শোনেনি। শনিবার দুপুরের ক্যানাল ভরাট করে দেওয়ায় আমার স্বামীর উপর হামলা চালায় মাহতাব উদ্দীন, তার দুই ছেলে মাহফুজুর রহমান ও হাদিসুর রহমান এবং মনার ছেলে নাঈম। ঠেকাতে গেলে আমাকে ও আমার ছেলে-মেয়েদেরকেও মারধর করে তারা।’
কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শারীরিক নির্যাতনের কারণে নাজমুল হকের শরীরে তেমন আঘাতের চিহ্ন দেখা না গেলেও তার শরীরের ভেতরে ব্যাপক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। চিকিৎসা চলছে, এখনি পুরোপুরি সুস্থ বলা যাবে না। তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবারটি।