চাকরি পেল বিড়াল

22

বিস্ময় প্রতিবেদন:
একেই বলে বিড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেড়া। বাংলা প্রবাদের বহুল আলোচিত এই বাক্য এতদিন শুনে আসলেও দেখার সৌভাগ্য অনেকেরই হয়নি। যাদের হয়নি তাদের দেখার ব্যবস্থা করে দিতে এগিয়ে এসেছে ব্রাজিলের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আইন পরামর্শক বিভাগ। তারা একটি বিড়ালের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। বিড়ালটির নাম মি. লিওন। ঘটনার শুরু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রচ- ঝড়ে বিধ্বস্ত ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ আমপা। ওইদিন ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে একটি বিড়াল ছানা আশ্রয় নেয়। প্রথম দর্শনে কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মীর বিড়ালটিকে ভালো লেগে যায়। তারা পরম মমতায় বিড়ালটিকে পুষতে থাকেন। এভাবে বেশ আরাম-আয়েশে সরকারি ভবনে বিড়ালটির দিন ভালোই কাটছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিয়ে নালিশ জানায়। তাদের যুক্তি ছিল- অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে বিড়াল পোষা কতটা যুক্তিযুক্ত! তারা বিড়ালটি রাস্তায় ফেলে দেয়ার দাবি জানায়। তবে বিড়ালটিকে যারা আশ্রয় দিয়েছেন তারা সেই দাবি মানতে রাজি হননি। উভয় পক্ষের টানাটানিতে যখন বিড়ালটির ভবিষ্যত বিপন্ন তখন এগিয়ে আসেন কার্যালয়ের আইন পরামর্শক বিভাগের প্রেসিডেন্ট ড. জ্যানেট লারিডো। তিনি বিড়ালটিকে কার্যালয়ের অভ্যার্থনাকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। সম্প্রতি ড. জ্যানেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিড়ালটির ছবিসহ এই ঘটনার বিবরণ পোস্ট করেন। পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এগারো হাজারবার পোস্টটি শেয়ার হয়েছে। অসংখ্য মানুষ ড. জ্যানেটের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বর্তমানে কার্যালয়ে অভ্যার্থনাকারী হিসেবে বেশ সুখেই আছে বিড়ালটি। প্রতিদিন গলায় সরকারি আইডি কার্ড ঝুলিয়ে অফিসও করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে তার নামে। সেখানে প্রতিদিন ছবি দিয়ে তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে সে। তবে বিড়ালটির জন্য সবচেয়ে খুশির বিষয়- এক সময় যারা তাকে বের করে দিতে চেয়েছিল, বর্তমানে তারাও তাকে আদর-যতœ করছে।