চাঁদাবাজি : অভিযুক্ত ইকরামের গাঢাকা

20

চুয়াডাঙ্গার আকন্দবাড়িয়া ও রাঙ্গিয়ারপোতায় বিজিবির সোর্স পরিচয়ে
দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গা সদরের আকন্দবাড়িয়া ও রাঙ্গিয়ারপোতা এলাকায় ইকরামুল হক ইকরাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। তিনি মাদক ও চোরাচালানের মালামাল পুলিশ-বিজিবির হাতে ধরিয়ে দেওয়ার নাম করে মাদককারবারিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সমস্যার সমাধান পেতে হয়রানির শিকার ভুক্তোভোগীরা আইনের আশ্রয় নিতে এককাট্টা হয়েছেন। এদিকে অবস্থা বেগতিক দেখে এলাকা থেকে কৌশলে পালিয়েছেন অভিযুক্ত ইকরাম।
সরকারের নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাদকের ঘাটি নামে খ্যাত আকন্দবাড়িয়া ও রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামে ৫৮ বিজিবির পাশাপাশি বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছেন। এতে করে মাদক কারাবারিদের কেউ কেউ আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের হাতে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আবার কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। আবার কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাঁদেরই একজন আকন্দবাড়িয়া গ্রামের গাংয়েরধারপাড়ার আলী আহম্মদের ছেলে ইকরামুল হক ইকরাম। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত মাদককারবারি। বর্তমানে তিনি ৫৮ বিজিবির কথিত সোর্স পরিচয় দিয়ে মানুষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের মধ্যে আইয়ুব আলীর কাছ থেকে ৪০ হাজার, সাইফুলের কাছ থেকে ৫ হাজার, শাহানাজের কাছ থেকে ২০ হাজার, রেকসোনার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ও ২টি স্বর্ণের চেইন, মিন্টুর কাছ থেকে ৬০ হাজার, রাজুর কাছ থেকে ২০ হাজার, বিলুর কাছ থেকে ২০ হাজার, সোনা ও মধুর কাছ থেকে ৪০ হাজার, ইজাজুলের কাছ থেকে তিন দফায় ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও অনেকের নিকট প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নাম করে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা ধার্য করে রেখেছেন।
অভিযোগকারীরা বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে প্রশাসনের কোনো সদস্য টাকা নেয়নি। ইকরামুল নিয়েছে নাম কাটার জন্য। পরে জানতে পারি, সে তাঁর ভাই রতন ও ইমাম এবং ছেলে সানজিলকে অফিসার সাজিয়ে আমাদের সামনে থেকে তাদের মোবাইল করত আর স্যার-স্যার করত। শুধু তাই নয়, বাড়িতে ধরে এনে আটকিয়ে রাখত। চুক্তির টাকা পরিশোধ করার পর মুক্তি দিত।’
ইকরামুলের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী ওয়ালিউর ইসলামের নিকট অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, ইকরামুল নিজেকে বিজিবি, র‌্যাব, ডিবি পুলিশের সোর্স হিসেবে দাবি করে থাকে। কেউ এর প্রতিবাদ করতে গেলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানি করিয়ে থাকে। এত দিনে ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণে আজ আমরা তার অপকর্ম প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি। সে তার মাদকের কারবার ঠিক রাখার জন্য নানাভাবে মানুষকে হয়রানি করে আসছে। যাতে করে প্রশাসনের নজর অন্যদিকে থাকে। তাই আমরা শপথ নিচ্ছি, আকন্দবাড়িয়া ও রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামে মাদকের কারবার চলতে দেব না।’
এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে ঝিনাইদহের খালিশপুর-৫৮ বিজিবির পরিচালক লে. কর্নেল কামরুল আহসান একটি বিশেষ ঘোষাণাপত্রে বলেন, ‘ইদানিং কিছু প্রতারক এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট বিজিবির কর্মকর্তাদের নামে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি করছে। প্রতারকচক্র চাঁদার জন্য সাধারণ জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এ সব প্রতারকদের কথায় কোনো চাঁদা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। সেই সঙ্গে প্রতারকদের আটক করে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লে. কর্নেল কামরুল আহসান বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হবার সঙ্গে সঙ্গে এলাকাবাসীকে সতর্ক করে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে। ইকরামুল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। আমাদের আস্থার সুযোগ নিয়ে ইদানিং সে একাজগুলো শুরু করেছে। আমাদের অফিসারের নাম ভাঙিয়ে ছেলেকে অফিসার সাজিয়ে এ কাজ করেছে। সে তাঁর সীমানা লঙ্ঘন করেছে। সে যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, তার মূল্য তাকে দিতে হবে।’