চরম দুঃসময়ে অতিদরিদ্ররা

33

ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজন
করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী এক মহাদুর্যোগ চলছে। শুধু যে ব্যাপক প্রাণহানি হচ্ছে তা-ই নয়, মন্দার করাল গ্রাস শুরু হয়ে গেছে অনেক দেশেই। মানুষ কাজ হারাচ্ছে। হু হু করে বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। আয়-উপার্জন কমে যাচ্ছে, ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে খাদ্যাভাব বা দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার পাশাপাশি খাদ্যাভাবেও বহু মানুষ মারা যাবে। বাংলাদেশও এমন আশঙ্কার বাইরে নয়। লকডাউন বা সাধারণ ছুটির কারণে উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বহু শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে ছোটখাটো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, দিনমজুর, হকারসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করা লোকজন। যেসব নিম্ন আয়ের মানুষ সাধারণত কায়িক শ্রম বিক্রি করে কিংবা দিন মজুরি করে, তারা পড়েছে সবচেয়ে বেশি বিপদে। সাধারণ ছুটির শুরুতে তাদের হাতে সামান্য সঞ্চয় ছিল, সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ বা খাদ্যসাহায্য দেওয়া হচ্ছিল, তাতে তারা কোনো রকমে চলতে পেরেছে। এখন তাদের হাতে কোনো সঞ্চয় নেই, কাজ নেই, আয়-উপার্জন নেই; ফলে দুবেলা দুমুঠো আহার জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সরকারের ত্রাণ তৎপরতাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। খোলাবাজারে কিছুটা কম দামে পণ্য বিক্রি করার কার্যক্রম ওএমএসও প্রায় বন্ধ। বন্ধ রয়েছে ১০ টাকা দামে চাল বিক্রির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও। ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে উঠেছে। দেশে কয়েক হাজার এনজিও আছে। কিন্তু ব্র্যাক ও হাতে গোনা কয়েকটি এনজিও ছাড়া আর কেউই মাঠে নেই। অথচ সরকারের পাশাপাশি এনজিওগুলো কিছু কিছু ভূমিকা রাখলেও পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন, সরকার খাদ্যনিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও সঠিক পরিকল্পনা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে যারা বসবাস করে, তাদের পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা নেই সরকারের কাছে। বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের তালিকা দিতে বলা হয়, সেই তালিকা ধরেই মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়। জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় তালিকা ছাড়াই ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এতে একদিকে যেমন ব্যাপক দুর্নীতি হয়, অন্যদিকে প্রকৃত দরিদ্ররা ত্রাণসাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়। জানা যায়, বছর ছয়েক আগে সরকার এমন একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিলেও তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এমনটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই, দেশের চরম দুর্যোগে অতিদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে রক্ষায় সরকার দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রম আবার শুরু করবে। পাশাপাশি এনজিও ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে সক্ষম ব্যক্তিদেরও।