চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ নিহত ৭

99

১০ বছরে সারা দেশে গ্যাস দুর্ঘটনায় নিহত ৫০০
সমীকরণ প্রতিবেদন:
চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটার ব্রিকফিল্ড রোডের পাঁচতলা বড়ুয়া ভবনের নিচতলায় গ্যাসের লাইন বিস্ফোরণে একই পরিবারের দুজনসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ১০ বছরে সারা দেশে গ্যাস বিস্ফোরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫০০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। এর মধ্যে চলতি বছরই এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন শতাধিক। ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস, বিস্ফোরক পরিদফতর ও বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য থেকে এ সংখ্যা বেরিয়ে এসেছে। গতকাল সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বিকট আওয়াজে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে দুটি ভবনের প্রাচীর ও সড়কের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দোতলা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের নন্দনকানন, চন্দনপুরা ও আগ্রাবাদ স্টেশনের ১০ গাড়ি উদ্ধার কাজ শুরু করে। বিস্ফোরণে নিহতরা হলেন পাথরঘাটা এলাকার জুলেখা খানম ফারজানা (৩০) ও তার ছেলে আতিকুর রহমান (৮), কক্সবাজারের উখিয়ার নুরুল ইসলাম (৩১), পটিয়া মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অ্যানি বড়ুয়া (৪০), রাঙ্গুনিয়ার কাজল নাথের মেয়ে কৃষ্ণকুমারী স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পিতা নাথ (১৬), নতুন ব্রিজ এলাকার শ্রমিক নুরুল ইসলাম (৩০), মহেশখালীর মো. সেলিম (৪৫) ও পটিয়ার মো. শুক্কুর (৪২)। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে পাঁচজন, কার্ডিওলজি বিভাগে দুজন এবং অর্থোপেডিক, নিউরো ও বার্ন ইউনিটে একজন করে ভর্তি করা হয়। তবে আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন থাকা সংকটাপন্ন অর্পিতাকে (১৫) ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। নিহতদের সবাই ছিলেন পথচারী। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাছাড়া ঘটনা তদন্তে বিস্ফোরক অধিদফতর ও ফায়ার সার্ভিসও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে। পাঁচ তলা ভবনটির মালিক অমল বড়ুয়া ও টিটু বড়ুয়া। তারা থাকেন ভবনের পঞ্চম তলায়। এটি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ভবনের নিচ তলার বাসিন্দা সন্ধ্যা নাথ গতকাল সকালে পূজার ঘরে ম্যাচ জ্বালাতেই বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় বিকট শব্দ হয়। আওয়াজে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। ভেঙে যায় ভবনের দরজা-জানালার কাচ। মেঝেতে পড়ে যায় অনেক আসবাবপত্র। ভবনের চতুর্থ তলার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক অঞ্জন কান্তি দাশ বলেন, ‘বিকট আওয়াজে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাড়ি কেঁপে ওঠে। বাসার জানালার কাচ ও দরজাও ভেঙে যায়। পরে নিচে নামার সময় দেখি দোতলার দরজা জানালাও ভেঙে গেছে।’ বড়ুয়া ভবনের পাশের দোতলা ভবনের নিচতলার বাসিন্দা প্রিয়া দাশ বলেন, ‘সকালে আমি ও মেয়ে একসঙ্গে শুয়েছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলো। তারপর জানালা দিয়ে ইটের টুকরো আর আবর্জনা এসে ঘরে ঢুকল। এতে আমার মেয়ের মাথা কেটে যায় ও আমিও আঘাত পেয়েছি।’
পাথরঘাটা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইসমাইল বালি বলেন, ‘ব্রিকফিল্ড রোডটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। বড়ুয়া ভবনে বিস্ফোরণে ১৬ ফুট প্রস্থের সড়কে ভবনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়ে। এ সময় রাস্তায় থাকা মানুষের ওপর দেয়াল পড়ে।’ চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাস লাইনটি হয়তো পুরনো ছিল। লিকেজ, নাশকতা, কেমিক্যাল আছে কিনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে ২টি আবাসিক ভবনের প্রাচীর ও সড়কের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দোতলা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।’
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ্ মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘গ্যাস লাইনে ত্রুটি থাকায় পুরো বাড়িটি গ্যাস চেম্বার হয়ে গিয়েছিল। তবে ঘটনা তদন্তে বিস্ফোরক অধিদফতর ও ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিস্ফোরণের মূল কারণ জানা যাবে।’