ঘুষের কুফল ও ইসলাম

19

ধর্ম প্রতিবেদন:
আধুনিক সমাজে একটি মারাত্মক ব্যাধি হলো ঘুষ বা উৎকোচ। এ ব্যাধির মারাত্মক ছোবলে গোটা সমাজব্যবস্থা আজ আক্রান্ত। এর কারণে জাতীয় আয়ে ঘাটতি হচ্ছে এবং ধ্বংস হচ্ছে নৈতিকতা। যে কোনো দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের পথে এটি প্রধান অন্তরায়। স্বাভাবিক প্রাপ্যের পরেও অসদুপায়ে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করার নাম হলো ঘুষ বা উৎকোচ। এটি ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। পৃথিবীর কোনো ধর্মই একে সমর্থন করে না। ঘুষের আরবি পরিভাষা হচ্ছে রিশওয়া। অন্যের অধিকার খর্ব করে নিজের জন্য অবৈধ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে সরকারি কর্মচারী বা অন্য কাউকে যে অতিরিক্ত টাকা-পয়সা বা উপঢৌকন প্রদান করা হয়, তা-ই ইসলামের পরিভাষায় ঘুষ বা উৎকোচ। ঘুষ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যাকে যে পদে নিয়োগ করা হয় এবং তাকে সে জন্য যে বেতন দেয়া হয় এ বেতন ছাড়া অতিরিক্ত যা গ্রহণ করবে তা ঘুষ বা বিশ্বাসঘাতকতা।’ কোরানে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের পরস্পরের সম্পদ অবৈধ উপায়ে খেয়ো না। মানুষের সম্পদের কিছু অংশ জেনে-শুনে অবৈধ উপায়ে খাওয়ার উদ্দেশ্যে বিচারককে ঘুষ দিও না।’ নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাওয়ার পর অবৈধভাবে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করা এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতাও। ঘুষখোরকে সমাজের সবাই ঘৃণা ও অবজ্ঞার চোখে দেখে। সাময়িক লাভবান হলেও ঘুষখোররা সমাজে মাথা উঁচু করে চলতে পারে না। ঘুষখোর নিজেই নিজেকে হেয় মনে করে। অনেকে তাকে ‘ঘুষখোর’ বলে গালি দেয়। ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়েই নানা পাপাচারে জড়িয়ে পড়ে। ঘুষের টাকা জোগাড় করতে ঘুষদাতা অপরাধের দিকে ধাবিত হয়। অন্যদিকে ঘুষ গ্রহণকারী বিনাশ্রমে অতিরিক্ত টাকা পেয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে পাপাচারের বিস্তার ঘটে। ঘুষ প্রদান ও গ্রহণ উভয়ই হারাম ও কবিরা গোনাহ। যারা অহরহ এসব গোনাহে লিপ্ত হয়, আল্লাহ তাদের ইবাদত কবুল করেন না। কারণ ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হচ্ছে হালাল খাবার গ্রহণ করা। ঘুষখোর ও ঘুষদাতা উভয়ের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয় বলে হাদিসে হুঁশিয়ারি করা হয়েছে। কেয়ামতের দিন ঘুষদাতা ও গ্রহীতার অবস্থা অত্যন্ত করুণ হবে বলেও উল্লেখ আছে হাদিসে। এ জন্য সামাজিক এই অনাচার থেকে প্রত্যেকের বেঁচে থাকা উচিত।