গ্রেপ্তারের দাবিতে নির্যাতিতা নারীর সংবাদ সম্মেলন

132

কোটচাঁদপুরে ক্লিনিক মালিক ও পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় নার্সিং হোম ক্লিনিকের মালিক আজাদ ও পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলাম জিরেকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী ওই নারী ও তাঁর স্বজনরা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে কোটচাঁদপুর স্থানীয় জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শেফালী খাতুনের স্বজন রাকিবুল হাসান, ইসরাফিল হাসান ও গোলাম রসুল উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিতা নারী অভিযোগ করেন, ‘গত বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি ক্লিনিকে ডেকে নিয়ে মৌলভী দিয়ে আজাদ আমাকে ভুয়া কাবিনে বিয়ে করেন। এমনকি তাঁর সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখার পরামর্শ দেন। বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে আমি আসামি আজাদকে ঘরে তোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করি। গেল বছর ২৬ আগস্ট বিকেলে আজাদের সঙ্গে দেখা করতে আমি নার্সিং হোমে আসি। এ সময় বাগবিতণ্ডা হলে একপর্যায়ে আজাদ মোবাইল ফোনে স্থানীয় পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলামকে ক্লিনিকে ডেকে আনেন। এ সময় নার্র্সিং হোমের নার্স রুমা ও গোলবানু আমাকে একটি কক্ষে আটক রাখেন। পরে মেয়র জাহিদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি জানার জন্য আমার রুমে প্রবেশ করেন। এ সময় আজাদ, রুমা ও গোলবানু বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। মেয়র জাহিদ একপর্যায় আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের বিষয়টি আজাদ ও ক্লিনিকের আয়া ও নার্সদের জানালে তাঁরা উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারপিট করে তাড়িয় দেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারিনি। পরে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি আমলে নিয়ে কোটচাঁদপুর থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পুলিশ ১২ জানুয়ারি মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। যার নম্বর ১২(১)২০২০। ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০(সংশোধনী/০৩) এর ৯(১)/৩০ ধারাসহ প্যানাল কোর্ডের ৩২৩/৩২৫।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। মামলার পর একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। ক্লিনিক মালিক ও পৌর মেয়র জিরে পলাতক রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। একটি মহল আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে।’