গোনাহ

19

ধর্ম প্রতিবেদন:
যে চিন্তা-চেতনা মানুষকে গোনাহের কাজ থেকে বিরত রাখবে তা মেনে চলা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত জরুরি। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বলা হয় গোনাহের স্বর্গরাজ্য। এ মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোর-যুবক ও বৃদ্ধ। খেলার ছলে কিংবা নফসের তাড়নায় অহরহ গোনাহে জড়িয়ে পড়ছে মানুষ। এমন কিছু চিন্তার বিষয় রয়েছে, যা মানুষকে গোনাহের কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর তাহলো- যে কোনো গোনাহের কাজের সময় মহান আল্লাহর উপস্থিতি উপলব্ধি করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যে কোনো ইলেক্ট্রনিক্স মাধ্যমে গোনাহ সংঘটিত হলে এটিকে চোখের খেয়ানত মনে করা জরুরি। অনেক মানুষই ভুলে যায় যে, মহান আল্লাহ মানুষের ভালো-মন্দ কাজের হিসাব গ্রহণে তার সঙ্গেই ফেরেশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন। যারা দিন-রাত এ হিসাব রেকর্ড করছেন। এ চিন্তা বা ভয় করা যে, কোনো মানুষ একা নয়। মানুষের প্রতিটি কাজের হিসাব রেকর্ড করা হচ্ছে। বিচার দিবসে এসব অপরাধের বর্ণনা মানুষের সামনে প্রকাশ করা হবে। এ কথা চির সত্য যে, মানুষের দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত (সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা, দিন) পরকালীন জীবনের সফলতা বা ব্যার্থতার হাতিয়ার। আপনার কাজই আপনাকে প্রতিটি মুহূর্তে হয় জান্নাতের মালিক বানাবে নতুবা জাহান্নামে ঠেলে দেবে। যেখানে মাঝামাঝি বলে কোনো অবস্থান থাকবে না। তাই সময়ের উত্তম ব্যবহার করে পাপ থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতীকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। গোনাহ হয়ে গেলে তা থেকে ক্ষমা চাওয়ার চেয়ে অন্যায় বা গোনাহের কাজ পরিহার করে চলার বিষয়টি কাজে বাস্তবায়ন করা জরুরি। সেক্ষেত্রে দুনিয়ার জীবনে বন্ধু নির্বাচন, যে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা কিংবা মন্দ কাজের দিকে ধাবিত না হওয়াই উত্তম। অযথ সময় ব্যয় করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সময় যত কম ব্যয় করা যায় ততই উত্তম। কোনো কাজ না থাকলে মহান আল্লাহর দেয়া জীবন বিধান আল-কুরআনের তেলাওয়াত, অধ্যয়ন, তাওবাহ-ইসতেগফার, জিকির-আজকার কিংবা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণও গোনাহমুক্ত থাকার উপায়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ধরনের অন্যায় অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে নিয়োজিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।