গাংনীতে পুলিশি অভিযানে ৪৩ ঘন্টা পর অপহৃত কৃষক উদ্ধার: ২ অপহরক আটক : জনতার গনধোলাই

289

গাংনী অফিস: পুুলিশি তৎপরতায় ৪৩ ঘন্টা পর মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চককল্যাণপুরের অপহৃত কৃষক মোশারফ হোসেন মোসা(৪৫) কে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে গাংনী থানা পুলিশের একটা দল চেংগাড়া গ্রামের সন্ত্রাসী মিন্টু মিয়ার বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে। স্থানীয় লোকজন গণপিটুনি দিয়ে দুজনকে পুলিশের সোপর্দ করে। এরা হচ্ছে- গাংনী উপজেলার কাষ্টদহ গ্রামের মোমিনের ছেলে জিনারুল ইসলাম (৩৫) ও সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের ঈমান আলীর ছেলে উমেদ আলী (২৮)। দুজনই পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বলে জানা গেছে। মিন্টু মিয়ার ঘরের একটি কক্ষে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় মোশারফরকে রাখা হয়েছিল। তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকতো তিন জন করে ঘটনার সময়ে একজন পালিয়ে গেলেও আটক হয় দুজন। গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে ওসি (তদন্ত) কাফিরুজ্জামান, সেকেন্ড অফিসার মনিরুজ্জামান, এসআই শংকর, আবু বক্কর, সুফল কুমার, ফজর আলী, এসআই মামুনসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে চেংগাড়া গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী আব্দুল গনির ছেলে মিন্টু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। শুধু তার বাড়ি নয় পুরো এলাকায় বিভিন্ন পোশাকে পুলিশ ঘিরে ফেলে। এসময় ঘরের দুটি দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় মোশারফকে উদ্ধার করা হয়। এসময় দুই অপহরককে হাতেনাতে পেয়ে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে তাদেরকে পুলিশ প্রহরায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুই দিন ধরে ওই ঘরে চোখ বেঁধে আটকে রাখার কারণে মোশারফ হোসেন চোখে ঝাপসা দেখছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, আটক দুজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও বোমাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত। এই চক্রের মূলহোতা মিন্টু মিয়া অভিযানের কিছুক্ষণ আগে সেখান থেকে সটকে পড়েছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
মোশারফ হোসেন বলেন, বুধবার রাতে তাকে ধরার পর থেকে মারধর করতে থাকে চাদাবাজরা।  রাতের আধারে মাঠে মাঠে হাটাতে হাটাতে নিয়ে আসে চেংগাড়া কিন্তু তাকে জানানো হয় ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা। তাকে খেতে দেয়া হলেও মারধর করা হতো। পরিবারের থেকে ১০ লক্ষ টাকা দিলে তাকে মুক্তি দেয়ার কথা বলে সন্ত্রাসী মিন্টু ও তার সহযোগীরা। সেও ১লক্ষ টাকা চাদা দিতে রাজি হয়। কিন্তু  পুলিশের তৎপরতার কারণে পরিবারের কাছে তারা মুক্তিপণ চাইতে পারেনি বলে জানান মোশারফ হোসেন। প্রসঙ্গত, গত বুধভার রাতে গ্রামের মাঠে ঘাস ক্ষেতে সেচ দেয়ার সময় দুর্বৃত্তরা এ উপজেলার চককল্যাণপুর গ্রামের কৃষক মোশারফকে অপহরণ করে। এসময় মোশারফের সঙ্গীয় আলফাজ উদ্দীনকে মারধর করে ফেলে রেখে যায়।