গাংনীতে কৃষক বাছাইয়ে অনিয়ম, হট্টগোল!

22

গাংনী অফিস:
মেহেরপুরের গাংনীতে সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে কৃষক বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগে উন্মুক্ত লটারির অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন। অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা উপজেলা কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তবে কৃষি অফিসার বলছেন, সময়ের অভাবে সঠিকভাবে কৃষক বাছাইয়ের নিয়ম কিছুটা এদিক-ওদিক হয়েছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠুভাবে কৃষক বাছাইয়ের লক্ষ্যে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত লটারির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গাংনী উপজেলায় এ বছর সকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ১৬৮৮ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হবে। কৃষিকার্ডের আওতাভুক্ত জনপ্রতি চাষির কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে একটন করে ধান ক্রয় করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষক বাছাইয়ের জন্য লটারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা খাদ্য অফিস। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কৃষি অফিসার মনগড়াভাবে অফিসে বসেই কৃষকদের নামের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। প্রকৃত চাষিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকা নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকদের তোপের মুখে পড়েন কৃষি অফিসার কে এম শাহাবুদ্দিন আহমেদ। বিভিন্ন কৃষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তালিকা প্রস্তুতে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় কৃষি অফিসারকে।
এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন জানান, সময়ের স্বল্পতার কারণে কৃষকের নামের তালিকা প্রস্তুতে কিছুটা অসঙ্গতি থাকতে পারে। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সব আমন ধান চাষিকে তালিকাভুক্তকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় নতুন করে তালিকা প্রস্ততের নির্দেশ দেন।
মেহেরপুর-২ আসনের (গাংনী) সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লটারি ১২ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ করেছেন, এতে আমার কোনো দ্বিমত নেই। আমিও চাই দু-একদিন দেরি হলেও প্রকৃত কৃষকরা সরকারি মূল্যে তাঁদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করুক। এতে আমার এলাকার কৃষক ভাইয়েরা উপকৃত হবেন। তাই ইউএনও লটারি সাময়িকভাবে স্থগিত করে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।’